ইউনিয়ন সভাপতিকে পেটালেন উপজেলা আ.লীগ সভাপতি
<![CDATA[
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় কথা মতো স্বাক্ষর না দেয়ায় নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনি তিনি বকশীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বুধবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলনে এ ঘটনা ঘটে।
নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকা জানান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ড শাখায় সম্মেলন হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনের প্রথম পর্ব শেষ করে সন্ধ্যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে কমিটি ঘোষণার জন্য নেতাকর্মী জড়ো হয়। কিন্তু ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের দাবি ছিল সম্মেলন স্থলেই কমিটি ঘোষণা দেয়ার। পরে দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ সিলেকশনের মাধ্যমে কমিটি দেওয়ার কথা বলেন।
তিনি আরও জানান, সিলেকশন কমিটিতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকাকে স্বাক্ষর দিতে বলেন। তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি মতো গোপন ব্যালটে নেতা নির্বাচিত করতে বলে স্বাক্ষর দিতে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন উপজেলা সভাপতি নুর মোহাম্মদ। প্রথমে সাইফুল ইসলাম খোকাকে লক্ষ্য করে গ্লাস ছুড়ে মারেন। এরপর তার শার্টের কলার ধরে চড়থাপ্পড় কিলঘুষি এবং লাথি মারেন। তার সাথে যোগ দেন তার বড় ভাই নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তার।তিনি তাকে মারধর করেন।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা জানান, মারধরের শিকার মো. সাইফুল ইসলাম খোকা এলাকার একজন সম্মানী ব্যক্তি। ৪০ বছর ধরে তিনি আওয়ামীলীগ করেন। নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছাড়াও তিনি নিলক্ষিয়া আব্দুস ছালাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়ায় জেলার নেতাদের সামনে তাকে মারধর করা হয় বলে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন।
আরও পড়ুন: বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না করায় প্রধান শিক্ষককে পেটালেন মেয়র
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিকে মারধর করার প্রতিবাদে নিলক্ষিয়া চৌরাস্তা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তার অনুসারী নেতাকর্মীরা। মিছিলটি নিলক্ষিয়া বাজারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বিচার দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতা-কর্মীরা।
এদিকে ঘটনার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মারধরের শিকার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকে সাইফুল ইসলাম খোকাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাকে কেন দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সাত দিনের মধ্যে তার লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সাইফুল ইসলাম খোকা বলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের কোন এখতিয়ার নেই আমাকে বহিষ্কার করার। তিনি দলীয় সভানেত্রীর কাছে তাকে মারধরের বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদের মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি ফোন ধরেননি।
]]>




