নদী সুরক্ষায় দেশে তৈরি হচ্ছে আধুনিক নৌযান: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
<![CDATA[
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ বলেছেন, নদী সুরক্ষায় আমরা বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আধুনিক নৌযান তৈরি।
সোমবার (৩ অক্টোবর) সিরডাপ মিলনায়তনে বুড়িগঙ্গা নদী তীরবর্তী ডকইয়ার্ডসমূহ উপযুক্ত জায়গায় স্থানান্তর সম্পর্কিত খসড়া সমীক্ষা প্রতিবেদন সম্পর্কিত জাতীয় কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৩ বছর আগেই জাহাজ মালিকদের সঙ্গে আমাদের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিল। সেখানে বুড়িগঙ্গা থেকে ডকইয়ার্ড স্থানান্তর নিয়ে প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছিল। সে লক্ষ্যেই আমরা এই পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ঢাকার চারপাশে নদীকে দখলমুক্ত ও নদী দূষণ রোধ করতে আমরা কাজ করছি। এখন ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান থেকে সরে এসে আধুনিক নৌযান তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ : নৌ প্রতিমন্ত্রী
জাহাজ মালিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব নৌযান তৈরি হচ্ছে তা পরিবেশবান্ধব হচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে। কেননা, কাঠামোগত দিক থেকে লঞ্চ, জাহাজ উন্নত হলেই হবে না, নদীর সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ২০০১ সালে নির্বাচনের পর নদী ও পরিবেশ রক্ষায় আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এতে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশের নদী ও পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে। তখন মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ছিল না। সেখানে নদী নিরাপদ থাকে কী করে?
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সে হিসেবে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই দেখা হবে না, পরিবেশসহ সামগ্রিক বিষয়টাই দেখা হবে। সামনে তা ডলার দিয়ে নয়, পরিবেশের সুরক্ষা দিয়ে মাপা হবে। আমাদের সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ইরান বাংলাদেশ থেকে ১০০টি নৌযান কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। তবে কোনো দেশ এমন প্রকল্প হাতে নিলে তারা সেখানকার পরিবেশটাকেও নজর দেন।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ বলেন, ঢাকার আশেপাশের ২২০ কিলোমিটার পোর্ট এরিয়া। এই এরিয়াকে রেড ক্যাটাগরি হিসেবে দেখা হয়। কেননা এইখানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলুয়েশন হয়। দূষিত হয় নদী। এই নদী দূষণ রোধে হাইকোর্টের রুলসহ আইনের যথাযথ ব্যবহার করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি ও গেটওয়ে: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নদীর সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। পিলার স্থাপন করা হয়েছে। ওই পিলারকেই নদীর সীমানা ধরা হলে এখনো বেশ কিছু ইন্ডাস্ট্রির সীমানা তা অতিক্রম করেছে। তবে এর মধ্যেও ৯০ শতাংশ দখল সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু দখল সমস্যার সমাধান হলেও নদীর দূষণ রোধ করা সম্ভব হয়নি।
]]>




