খেলা

আফগানিস্তানে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় স্থবির জনজীবন

<![CDATA[

নজিরবিহীন তুষারপাত আর তীব্র ঠান্ডায় আফগানিস্তানজুড়ে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। এরই মধ্যে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৬০। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানী কাবুলসহ দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চল।

বরফ জমা ঠান্ডা থেকে বাঁচতে ঘর গরম রাখার কয়লা কেনার সামর্থও নেই ভঙ্গুর অর্থনীতির এ দেশটির সাধারণ মানুষের। তালেবান প্রশাসনের নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সহায়তা বন্ধ করে দেয়ায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

গত ১৫ বছরের মধ্যে এবারই শীতকালে সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা পড়েছে আফগানিস্তানে। কোনো কোনো প্রদেশে তাপমাত্রা মাইনাস ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

তীব্র তুষারপাত ও ঠান্ডায় বিপর্যস্ত আফগানিস্তানে প্রতিদিনই মৃতের তালিকায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। তুষারপাতে বিপর্যস্ত আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বেশিরভাগ প্রদেশ। বৈরী আবহাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। মানবেতর জীবন যাপন করছেন অসংখ্য মানুষ।

আরও পড়ুন: ফের যুদ্ধে জড়াবে ভারত-চীন!

৩০ বছর বয়সী আসুর আলি। পরিবার নিয়ে থাকেন রাজধানী কাবুলের পশ্চিমাঞ্চলের একটি এলাকায়। কংক্রিটের একটি ছোট বাসায় ৫ সন্তান নিয়ে তীব্র এই ঠান্ডায় অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা থেকে বাঁচতে ঘর গরম রাখার জন্য কয়লা কেনার সামর্থ্যও নেই তার।

আর তাই সন্তানদের নিয়ে বাড়ির পাশের মাঠে খুজে বেড়াচ্ছেন প্লাস্টিক। আসুর আলি বলছিলেন, ‘এখানে অনেক ঠান্ডা। ঘর গরম রাখার জন্য কয়লা কিনতে পারছি না। তাই সকালেই বের হয়েছি প্লাস্টিক খুঁজতে। এগুলো জ্বালিয়ে ঘর গরম রাখার চেষ্টা করব। আমার বাচ্চারা ক্ষুধার্ত। তাদের খাবার দিতে পারছি না। কিছু আটা যোগার করেছি। তবে সেগুলো এক সপ্তাহও চলবে না।’

আসুর আলির মতোই অবস্থা কাবুল শহরের আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের। ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে শীত থেকে বাঁচতে গরম কাপড়সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেও হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় পরিবার নিয়ে ভবিষ্যতের শঙ্কায় দিন পার করছেন।

আরও পড়ুন: ইরানে আজারবাইজান দূতাবাসে হামলা, নিরাপত্তা প্রধান নিহত

সরকারের পক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষকে সহায়তা দেয়াও সম্ভব হচ্ছেনা। এনজিও’তে নারী কর্মীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর থেকে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন আফগানিস্তানে সহায়তা বন্ধ করে দেয়ায় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে সার্বিক পরিস্থিতি।

 

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!