আবারও লোকালয়ে অজগর
<![CDATA[
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের একটি ফসলি জমি থেকে আবারও একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে শ্রীমঙ্গলের নওয়াগাঁও গ্রাম থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেলে নওয়াগাঁও গ্রামের কয়েকজন কৃষক মাঠে ধান কাটছিলেন। এ সময় তারা ধানক্ষেতে একটি অজগর দেখতে পান। তবে মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে অজগরটি পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় কৃষকদের হইহুল্লোড়ে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে অজগরটিকে মারতে উদ্যত হন।
এ সময় খবর পেয়ে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হন এবং স্থানীয়দের বুঝিয়ে অজগরটি উদ্ধার করেন। পরে সাপটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্বপন দেব সজল বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ বন-জঙ্গলে ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। এতে সাম্প্রতিক সময়ে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে বেরিয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন : নাটোরে চিত্রা প্রজাতির কচ্ছপ উদ্ধার
বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, অজগর নির্বিষ একটি সাপ। এই সাপটি নিশাচর ও খুবই অলস প্রকৃতির, প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়াও করে না। এই প্রজাতিটি গাছে একাকী বাস করলেও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাঁধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে প্রজননকাল। দেশের ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে এদের দেখা পাওয়া যায়। সাপটি সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না। খাদ্য হিসেবে এরা ইঁদুর, মুরগি, সাপ-কচ্ছপের ডিম, ছোট বন্যপ্রাণী ইত্যাদি খায়। এটি তার আকারের চেয়েও অনেক বড় প্রাণী খুব সহজেই গিলে খেতে পারে।
তিনি আরও জানান, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর তফসিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, তাই এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা হবে দণ্ডনীয় অপরাধ।
]]>




