আর্জেন্টিনার উন্নতির নেপথ্যে কী?
<![CDATA[
ক্যারিয়ারে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন থেকে আর মাত্র এক ম্যাচ দূরে লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠার পেছনে অসামন্য অবদান রয়েছে ৭ বারের ব্যালন ডি’ অর জয়ী তারকার। ফ্রান্সের বিপক্ষে রোববার (১৮ ডিসেম্বর) মাঠে নামলে একাধিক নজিরও গড়বেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।
আলবিসেলেস্তেরা সবশেষ ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ শিরোপা উদযাপনে মেতেছিল। এরপর কেটে গেছে অনেকগুলো বছর। এখন মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা অনেক পরিপক্ক। দীর্ঘ ২৮ বছর পর মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা গত বছর কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে। বিশেষ করে কাতার বিশ্বকাপে আগের ৪ আসরের তুলনায় ব্যাপক উন্নতি হয়েছে মেসির। তাই দীর্ঘ ৩৬ বছরের শিরোপখরা ঘোচানোর স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টাইনরা।
আর্জেন্টিনার দারুণ দলটার প্রাণভোমরা মেসি এবার শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন। ৩৫ বছর বয়সেও মাঠে ফোটাচ্ছেন অলৌকিক সৌন্দর্যের ফুটবল ফুল। আর্জেন্টিনার এই নাম্বার টেন তার শেষ বিশ্বকাপে খেলছেন অনেকটা নির্ভার হয়ে। ক্যারিয়ারে আর বিশেষ কিছু পাওয়ার নেই তার। একটা বিশ্বকাপ শিরোপা দিতে পারে পূর্ণতা। তাই মেসির পূর্ণ মনোযোগ বিশ্বকাপেই। এর ফলও পাচ্ছেন আর্জেন্টাইনরা।
জাতীয় দলে সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছেন মেসি। পাশাপাশি অনেক বিশ্বরেকর্ডও ভাঙছেন তিনি। মরুর বুকে প্রত্যাশার চেয়েও দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন এলএমটেন। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের গোলসংখ্যা ৫টি। এর মধ্যে ৩টি ছিল পেনাল্টি থেকে। ২০১৪ বিশ্বকাপে মেসি গোল করেছিলেন ৪টি।
আরও পড়ুন: মেসিরা শিরোপা জিতলে ক্ষতি কোটি কোটি টাকা!
পাঁচ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মেসির গোলসংখ্যা ১১টি। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ১০ গোল নিয়ে তার পেছনে রয়েছেন। কাতার বিশ্বকাপে শুধু গোলস্করার হিসেবেই না, মেসির পারফরম্যান্সেও অন্যান্য খেলোয়াড়ের চেয়ে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। যদিও ফাইনাল ম্যাচের পরেই জানা যাবে, ফিফার ‘সেরা খেলোয়াড়’ কে হবে।
মাঠের বাইরে এবং ভেতরে মেসি আগের চেয়ে অনেক পরিপূর্ণ। নেতৃত্বের গুণাবলীর দিক থেকেও অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে তাকে অভিজ্ঞ মনে হয়েছে। কঠিন সময়ে ঠান্ডা মাথায় খেলতে দেখা গেছে তাকে। যেমনটি তিনি কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কঠিন মুহূর্তে দেখিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: ব্যক্তিগত জীবনে মেসি-এমবাপ্পে বিপরীত মেরুতে
অতিতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার মেসির অ্যাসিস্টেও অনেক উন্নতি হয়েছে। এবার তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৩টি। অর্থাৎ তার দেয়া পাস থেকে ৩টি গোল হয়েছে। নিজের ক্যারিয়ারের ৫ বিশ্বকাপে তার মোট অ্যাসিস্ট ৮টি। ফাইনালে আর একটি অ্যাসিস্ট করলেই তিনি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে যাবেন।
সর্বকালের সেরা ফুটবলারের বিতর্কে পেলে ও ম্যারাডনার সঙ্গে লিওনেল মেসির নামও প্রায়ই আসে। গত দেড় যুগে জাদুকরি ফুটবল খেলে বিশ্বের তাবৎ ফুটবল ভক্তদের আচ্ছন্ন করেছেন মেসি নামের জাদুতে। কী ব্যক্তিগত, কী দলগত, সম্ভাব্য সব শিরোপাই দখলে তার। কিন্তু যখন প্রশ্ন আসে জাতীয় দলের হয়ে অর্জনের, তখন চোখের সামনে যে রিক্ত এক শিল্পীর চেহারাই ভাসে।
অবশেষে ২০২১ কোপা আমেরিকায় ঘুচল সে খরা। কোপা আমেরিকার ফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপার স্বাদ পান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। তবে বিশ্বকাপ তো বিশ্বকাপই।
বিশ্বকাপের কাছাকাছি গিয়েও খালিহাতে ফিরে আসতে হয়েছে আর্জেন্টিনার। বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেও রিক্ততায় মুষড়ে পড়তে হয়েছে মেসিকে। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠেও শিরোপা উৎসব করা হয়নি আর্জেন্টিনার। ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোলে শিরোপা জেতে জার্মানি।
ব্রাজিলের পর রাশিয়া বিশ্বকাপেও খালিহাতে ফিরতে হয়েছে আলবিসেলেস্তেদের। দুর্ভাগ্যটা তাড়া করে ফিরেছে সেবারও। তাইতো গ্রুপ পর্বে বাজে পারফরম্যান্সের খেসারত দিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পড়তে হয়েছে দুর্দান্ত ফ্রান্সের সামনে। সে লড়াই ৪-৩ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় মেসি-মারিয়াদের।
ব্রাজিল বা রাশিয়ায় না হলেও কাতারের মরুভূমিতে ফুল ফোটালে ফের বদ্ধপরিকর লিওনেল মেসি ও তার সতীর্থরা।ক্যারিয়ারের পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলার মাইলফলকের সামনে থাকা ৩৫ বছর মেসির যে এটিই সর্বশেষ বিশ্বকাপ, তা জানিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং মেসিই। নিজের শেষ বিশ্বকাপটা রাঙাতে চান শিরোপা উৎসব করে। মেসি সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সেই স্বপ্ন দেখতেই পারেন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা।
]]>




