খেলা

‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিয়ে তীর্থযাত্রীদের মরদেহ তুলে আনছেন মুসলমানরা!

<![CDATA[

করতোয়ার ওপারে বদেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার মহালয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আউলিয়ারঘাট পাড়ি দেয়ার সময় শতাধিক তীর্থযাত্রী নিয়ে নৌকাডুবির পর শত শত মুসলমান ঝাঁপিয়ে পড়েন করতোয়া নদীতে। কোনো রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী থেকে একের পর এক মরদেহ তুলে আনেন তারা। একেকটা মরদেহ উঠিয়ে আনার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় চারদিক।

দু-তিন দিনের পুরোনো একেকটি মরদেহ কোলে তুলে পাড়ে আনতে আনতে অনেককে বলতে শোনা গেছে, এরা আমাদের কেউ নন। আত্মীয়স্বজনও নন। নেই রক্তের কোনো সম্পর্ক। আমাদের ধর্মেরও কেউ নন। এরা মানুষ। মানবিক কারণে আমরা তাদের উদ্ধার করছি। নিখোঁজ মানুষের আত্মীয়স্বজনের আহাজারি সইতে পারছি না আর।

পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ৬৯টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। অবশিষ্ট নিখোঁজ তিনজনকে উদ্ধার করতে পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালেও।

উদ্ধার অভিযানে ৩টি ডুবুরি দলসহ অংশ নিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট। কিন্তু দুর্ঘটনার পর থেকে উদ্ধার তৎপরতায় ব্যর্থতার অভিযোগের তিরে বিদ্ধ হয়েছেন এই বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা।

বিক্ষুব্ধ মানুষের অভিযোগ, একটি মরদেহও উদ্ধার করতে পারেননি তারা। তবে স্থানীয়দের দাবি যাই হোক, ৬৯টি মরদেহের সব কটি উদ্ধারের দাবি বাহিনীর কর্মকর্তাদের।

আরও পড়ুন: করতোয়ায় নৌকাডুবি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক মনজিল হক বুধবার সময় সংবাদের প্রশ্নের কৌশলী উত্তরে বলেন, ৬৯টি মরদেহই উদ্ধার করেছে তার বাহিনী। তবে স্থানীয়দের সাহায্য ছিল।

পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতা চলাকালে বারবার তোপের মুখে পড়তে হয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। তাদের কাজ খুব একটা পছন্দ করেনি সাধারণ মানুষ। অনেকের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা নদীর যে স্থানে খুঁজে মরদেহ পাননি, সেসব স্থান থেকে একের পর এক মরদেহ তুলে এনেছেন স্থানীয়রা।

অভিযানের পুরো সময় সাধারণ মানুষের তৎপরতাই চোখে পড়েছে সবার। ছোট ছোট ডিঙিতে লাঠির সাহায্যে মরদেহ খুঁজতে দেখা যায় অনেককে। এক নিশ্বাসে গভীর পানিতে ডুবে মরদেহ খুঁজে বেড়িয়েছেন অনেকে। আবার কখনো হাত ধরাধরি করে লম্বা মানবজাল তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করে নদী থেকে তুলে আনেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: তদন্ত কমিটির সময় বাড়ল

বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয় সদস্যের ৩টি ডুবুরি ইউনিটসহ সংস্থাটির মোট ১২টি ইউনিট কাজ করেছে করতোয়া নদীর এই উদ্ধার অভিযানে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দু-চারটি মরদেহও উদ্ধার করতে পারেননি বিশেষ এই বাহিনীর সদস্যরা। ঘটনার দিন রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধারের পর স্থগিত করা হয় অভিযান। এরপর সোমবার ২৬টি, মঙ্গলবার ১৮টি এবং বুধবার একটিসহ মোট ৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়।

রোববার ঘাট ছাড়ার সময় অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকাটির পাশে ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্যকে দেখা যায় দাঁড়িয়ে থাকতে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও টেলিভিশনের ফুটেজগুলোতে বাহিনীর নির্লিপ্ততা প্রকাশ পেলেও মুখে সাফল্যের দাবি ভালোভাবে নিচ্ছে না সাধারণ মানুষ। এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা বা বক্তব্য দেয়া হয়নি সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

নৌকাডুবির ঘটনা রোধে আগাম ব্যবস্থা হিসেবে ওই ঘাটে পুলিশের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের মোতায়েন করেছিল উপজেলা প্রশাসন।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!