বাংলাদেশ

উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানিতে ৪ সহস্রাধিক বাড়ি ভেঙে দেয়ার রায় সুপ্রিম কোর্টে স্থগিত

<![CDATA[

ভারতের উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানিতে ভারতীয় রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা চার সহস্রাধিক বাড়ি ভেঙে দেয়ার নির্দেশনা দিয়ে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা স্থগিত করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এতে যেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল হলদোয়ানির প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। হাইকোর্টের দেয়া রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন উচ্ছেদের মুখে থাকা বাসিন্দারা। খবর আল-জাজিরার।

সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, হলদোয়ানির রেলওয়ের ওই জমিতে প্রায় চার হাজার বসতবাড়ি, সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১৫টি স্কুল, একটি ব্যাংক, পানি সরবরাহের ২টি ট্যাঙ্ক, ১০টি মসজিদ, ৪টি মন্দির ও বহু দোকানপাট রয়েছে। উচ্ছেদের আতঙ্কে থাকা প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দার ৯০ শতাংশই মুসলিম। ৭৮ একরের এলাকায় রয়েছে পাঁচটি ওয়ার্ড। ভোটার রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার। মোট বাসিন্দাদের মধ্যে বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী ও শিশুর সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার।

২০১৩ সাল থেকে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। দীর্ঘ শুনানির পর গত ২০ ডিসেম্বর উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট রেলওয়ের জমি ‘জবরদখল’মুক্ত করার রায় দেন। তারপরই নৈনিতাল জেলা প্রশাসন খবরের কাগজে নোটিশ জারি করে। এলাকাবাসীকে আগামী ৯ জানুয়ারির মধ্যে তাদের জিনিসপত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন: ৯ দিন বিরতি দিয়ে ভারত জোড়ো যাত্রা শুরু

প্রশাসন ১০ জন এডিএম এবং ৩০ জন এসডিএমকে প্রক্রিয়াটি তদারকি করার নির্দেশ দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সমাজকর্মী ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী প্রবীণ কংগ্রেস নেতা হরিশ রাওয়াত বলেন, উত্তরাখণ্ড একটি আধ্যাত্মিক রাজ্য। রাজ্যে যদি প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে রাতারাতি বেঘর করে দেয়া হয়, তবে তা হবে অত্যন্ত খারাপ। ওই লোকদের মধ্যে রয়েছে শিশু-মহিলা, বৃদ্ধ, প্রসূতি, মুমূর্ষু রোগীরাও। এর জবাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি দায়সারা গোছের জবাব দিয়ে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত সরকার মাথা পেতে নেবে।

হাইকোর্ট ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-আন্দোলনে নামেন হলদোয়ানির বাসিন্দারা। তাদের দাবি, তারা এখানে ছয় দশক ধরে বসবাস করছেন। আবিদ শাহ নামে এক বাসিন্দা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’কে জানান, ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে সেখানে বসবাস করছেন তারা। তার মতে, হঠাৎ করে তুলে দেয়ার অধিকার রেলের নেই। সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানান আবিদ। অনুমতি ছাড়া কীভাবে হাসপাতাল ও স্কুল হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হলদোয়ানির এ পৃবীণ বাসিন্দা।

জুনায়েদ খান (৩৮) নামে আরেক বাসিন্দা জানান, তার স্ত্রী গর্ভবতী। আগামী ৭ জানুয়ারি প্রসবের জন্য তার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। দেশের শীর্ষ আদালত তাদের উদ্ধার না করলে, বৃদ্ধ মা ও স্ত্রীসহ পুরো পরিবারকে স্থানান্তর করতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে। অন্যত্র চলে যাওয়ার সরকারি নির্দেশিকায় সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী রিজা ফতিমা। আগামী সপ্তাহে স্কুলে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। সরকারি নির্দেশে তারা অসহায় বোধ করছে বলে জানিয়েছে ওই ছাত্রী।

আরও পড়ুন: সোনিয়া গান্ধী হঠাৎ অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি

প্রায় ৪০০০ ঘরদোর ভেঙে ফেলার আশঙ্কায় কয়েক দিন ধরে শীতের মধ্যেও দিনরাত এক করে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন এলাকাবাসী। হলদোয়ানির রাস্তায় প্রতিবাদের পাশাপাশি প্রার্থনা ও সরকারি অফিসারদের কাছে কাকুতি-মিনতি জানিয়ে আসছিলেন তারা। সমাজকর্মী ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও মাঠে নামে। তাদের অভিযোগ, ওই এলাকার বাসিন্দাদের অধিকাংশই মুসলিম। তাদের উচ্ছেদ করতে চায় বিজেপি সরকার। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে হলদোয়ানির মানুষের মনে আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!