একটি ভালো কাজ করলেই খাবার ফ্রী
<![CDATA[
রাস্তার পাশে ফুটপাথে বসে আছেন ছোট বড় নানা বয়সী মানুষ। এক তরুণ, প্রত্যেককে দুটো করে প্রশ্ন করছেন। প্রশ্নগুলো হলো, আপনার নাম কী এবং আজ আপনি কী ভালো কাজ করেছেন? উত্তর নিয়ে বিনামূল্যে প্লেটে তুলে দেয়া হচ্ছে গরম গরম স্বাস্থ্যকর খাবার। এমন ব্যতিক্রমী দৃশ্যই প্রতিদিন চোখে পড়বে রাজধানীর গুলশান, তেজগাঁও কিনবা কমলাপুরে। আর এ উদ্যোগের নাম ‘ভালো কাজের হোটেল’।
রাজধানীর একদল তরুণ ভালো কাজকে উৎসাহিত করতে খুলে বসেছেন এ হোটেলটি। শনি থেকে বৃহস্পতিবার অসহায় মানুষকে অন্তত একটি ভালো কাজের বিনিময়ে খাবার দিয়ে থাকেন তারা। আর শুক্রবার খাবার নিয়ে ছোটেন বিভিন্ন মসজিদ ও এতিমখানায়। প্রতিদিন প্রায় ৬শ’ থেকে ৭শ’ মানুষ তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন তাদের দেয়া খাবার খেয়ে।
গল্পটার শুরু ২০০৯ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া কয়েকজন তরুণের মন নাড়া দিয়েছিল অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো জন্য। এরপর গুটি গুটি পায়ে আজ এ অবস্থানে।
এ প্রসঙ্গে ভালো কাজের হোটেলের প্রধান স্বেচ্ছাসেবক মো. আরিফুর রহমান বলেন, আমি হুমায়ুন আহমদের সবুজ ছায়া নাটকে জাহিদ হাসানের অভিনয় থেকে এই আইডিয়াটি পেয়েছি। যেখানে জাহিদ হাসান প্রতিদিন একটা করে ভালো কাজ করতো। ইউনিভার্সিটি জীবন থেকে আমি নিজেও ভালো কাজ করার চেষ্টা করছি। অন্যরাও যাতে করে সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আরও পড়ুন: রূপকথার গল্পকেও হার মানালেন জাপানের রাজকুমারী
খাবার বিতরণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় মাঝে মধ্যেই পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। তবে সব বাধাকে উতরে আলোর গতিতেই ছুটছে ভালো কাজের হোটেলের কার্যক্রম। হোটেলটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাসাবো এলাকায় রয়েছে নির্দিষ্ট কিচেন (রান্নাঘর)। রয়েছে বাবুর্চি আর নির্ধারিত কর্মচারী।
ভালো কাজের হোটেলের ফান্ডিং করা হয় ‘ডেইলি টেন মেম্বার’ এর মাধ্যমে। প্রতিদিন ১০ টাকা করে মাসে ৩০০ টাকা দেন এর দেড় হাজার সদস্য। যদিও সে টাকায় ২০ থেকে ২২ দিনের বেশি খাবারের খরচ উঠানো যায় না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুধু রাজধানীতেই নয়, ঢাকার বাইরেও শুরু হয়েছে ভালো কাজের হোটেলের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। সুযোগ মিললে সারা দেশেই ছড়িয়ে দেয়া হবে এ হোটেলটির শাখা।
]]>




