এক বছর ধরে অন্ধকারে ৭ শতাধিক চরবাসী
<![CDATA[
ভোলার মেঘনা নদীতে ক্ষতিগ্রস্ত সাবমেরিন ক্যাবল সাত মাসেও পুনঃস্থাপন করতে পারেনি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এতে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে মেঘনার মধ্যবর্তী মাঝের চর ও মদনপুর চরের সাত শতাধিক গ্রাহক। কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
জানা গেছে, উদ্বোধনের পরপরই সাবমেরিন ক্যাবলের এমন ত্রুটিকে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর শত বছরের অন্ধকার ঘোচাতে পাওয়া বিদ্যুৎ নিয়ে দুর্গম চরবাসী যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা অল্পদিনেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
সাড়ে চার কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সদর উপজেলার মেঘনা নদীর মধ্যবর্তী মাঝের চরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। স্বপ্নের বিদ্যুৎ পেয়ে ওই মাসেই সাড়ে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে কম্পিউটারের দোকান দেন শারীরিক প্রতিবন্ধী জাকির হোসেন। জন্মনিবন্ধন, ভর্তি, চাকরির আবেদনসহ অনলাইন ও ছবি তোলার কাজ করে সংসার চালাতেন জাকির। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই সাবমেরিন ক্যাবলে ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
জাকির জানান, ব্যবসা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। বেশি দামে কেনা সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে বিকল্প উপায়ে ব্যবসা চালানোর চেষ্টা করেও সফল হচ্ছেন না। বর্তমানে এনজিওর ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: সাবমেরিন ক্যাবলে আলো পাচ্ছে ‘দ্বীপকন্যা’
গ্রাহকরা জানান, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে জেলা সদরের তুলাতুলি থেকে তিনটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন মাঝের চর ও মদনপুর চরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। মেঘনায় চলাচলকারী বড় নৌযানের অপরিকল্পিত নোঙর করার কারণে ছয় মাসের মধ্যেই তিনটি ক্যাবল ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়েন ৭২০ গ্রাহক। ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে নেয়া সঞ্চালন লাইন দীর্ঘদিন পড়ে আছে বিদ্যুৎবিহীন। আধুনিক সুবিধা ভোগের জন্য অনেকে ঘরে টিভি-ফ্রিজসহ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম কিনেছেন; যা বিদ্যুতের অভাবে এখন নষ্ট হচ্ছে। সাত মাসেও সমস্যার সমাধান করতে না পারায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন চরের দরিদ্র মানুষজন। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও।
আরও পড়ুন: সাবমেরিন ক্যাবলে ত্রুটি, দেড় মাস ধরে অন্ধকারে ২ চরের বাসিন্দা
ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাবল পুনঃস্থাপনের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন হয়েছে, কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ-র ডিজাইন অনুযায়ী নদীতে বয়া স্থাপনের জন্য আর্থিক অনুমোদনের অপেক্ষা বলে জানান পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আলতাপ হোসেন।
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। নিরাপদ নৌযান চলাচলের জন্য বিআইডব্লিউটিএ ডিজাইন করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিচ্ছিন্ন চরের বাসিন্দাদের আলোকিত করার জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেঘনা নদীর তলদেশ দিয়ে এ সাবমেরিন কেবল টানা হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাবলটি পুনঃস্থাপনের জন্য আরও ২ কোটি টাকা প্রয়োজন।
]]>




