এবার কি শিরোপা জিততে পারবে প্রোটিয়ারা?
<![CDATA[
বিশ্বকাপে চোকার্স খ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতি বিশ্বকাপের মতো এবারও ফেবারিটের কাতারেই ফেলবে সবাই। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে আশা জাগিয়েও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। সেই আক্ষেপ ভুলে কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিদি, কুইন্টন ডি কক, ডেভিড মিলাররা বিশ্বকাপের অধরা ট্রফি জয়ের লক্ষ্য নিয়ে লড়তে শতভাগ প্রস্তুত।
বিশ্বকাপের আগে ছন্দে নেই দক্ষিণ আফ্রিকা। সম্প্রতি ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের পর, ওয়ানডে সিরিজেও ব্যর্থতার পরিচয় দেয় টেম্বা বাভুমার দল। সেই হারের আক্ষেপ ভুলে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইতিবাচক কিছু উপহার দিতে চাইবে দক্ষিণ আফ্রিকা। সবকিছুই সময়ের অপেক্ষা। মাঠের চিত্র হয়তো বলে দেবে অনেক কিছুই।
আরও পড়ুন: সব অধিনায়কের উপস্থিতিতে বাবর আজমের জন্মদিন উদ্যাপন
গত বছর ওমান ও আরব আমিরাত বিশ্বকাপে, গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। যদিও সেবার গ্রুপ ওয়ানে ৫ ম্যাচের ৪টিতে জিতে ৮ পয়েন্ট নিয়ে প্রোটিয়ারা আশা জাগালেও, নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় সেমিফাইনালে পা রাখে অস্ট্রেলিয়া।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বড় অর্জন, দুটি সেমিফাইনাল খেলা। ২০০৯ সালে শেষ চারের লড়াইয়ে পাকিস্তানের কাছে হেরে যায় প্রোটিয়ারা। এরপর ২০১৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে তারা সেমিফাইনালে হারে ভারতের কাছে।
এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা সরাসরি খেলবে সুপার টুয়েলভে। সেই পর্বের ২ নম্বর গ্রুপে দলটির সঙ্গী উপমহাদেশের তিন দল বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান। এ ছাড়া প্রথম পর্বে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন এবং ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলও সঙ্গী হবে প্রোটিয়াদের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মার্ক বাউচারের দলের অভিযান শুরু হবে ২৪ অক্টোবর। হোবার্টে দলটির প্রতিপক্ষ প্রথম পর্বের ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন।
এ নিয়ে সপ্তমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে প্রোটিয়ারা। যেখানে র্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান চার নম্বরে। ২০০৭ থেকে ২০২১, সব মিলিয়ে ৩৫ ম্যাচের ২২টিতে জিতেছে। আর হেরেছে ১৩টি। বিশ্বকাপে দলটির সর্বোচ্চ রান ২২৯ এবং সর্বনিম্ন ১১৬।
দক্ষিণ আফ্রিকা দলের মূল শক্তি তাদের ব্যাটিং। অধিনায়ক বাভুমা অফফর্মে থাকলেও বাকিরা আছেন সেরা ফর্মে। কুইন্টন ডি কক, এইডেন মার্করাম, ট্রিস্টান স্টাবসরা দারুণ ছন্দে আছেন। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে চারে আছেন মার্করাম। এ ছাড়াও র্যাংকিংয়ে দশে আছেন ডি কক। বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের ব্যাটসম্যানদের দিকে নজর থাকবে সবার।
ব্যাটিং বাদ দিলেও বোলিংয়ে আছেন রাবাদা, পারনেল, নরকিয়ার মতো বোলাররা। তবে বোলিংয়ে প্রোটিয়াদের আসল শক্তি তাদের দুই স্পিনার শামসি ও মহারাজ। আইসিসি টি-টোয়েন্টি বোলিং র্যাংকিংয়ে শামসির অবস্থান চার নম্বরে আর মহারাজ আছেন নয়ে। যদিও অস্ট্রেলিয়ার পিচে সুবিধা পায় পেসাররা, তবে স্পিন অ্যাটাকেও প্রতিপক্ষকে কাবু করতে পারবে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনাররা।
২২ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ১৯৯২ সালে ক্রিকেট অঙ্গনে ফিরে আসার পর প্রতিটি বিশ্বকাপেই ফেবারিট হিসেবে যাত্রা শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ জেতা হয়নি আফ্রিকান প্রতিনিধিদের।
আরও পড়ুন: তাসমানপাড়ে গত বিশ্বকাপের আক্ষেপ ঘোচাতে চায় নিউজিল্যান্ড
সবসময় চোকার্স তকমা নিয়ে বিশ্বকাপের মতো বড় আসর থেকে বিদায় নিতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এবার কি অস্ট্রেলিয়ায় কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিদি, অ্যানরিখ, কুইন্টন ডি কক কিংবা ডেভিড মিলারদের মতো তারকাদের নিয়ে শিরোপা জিততে পারবে প্রোটিয়ারা?
দক্ষিণ আফ্রিকা স্কোয়াড
টেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), কুইন্টন ডি কক, হেনরিখ ক্লাসেন, রেজা হেনড্রিক্স, কেশব মহারাজ, এইডেন মার্করাম, ডেভিড মিলার, লুঙ্গি এনগিডি, আনরিখ নরকিয়া, ওয়েইন পারনেল, মার্কো ইয়ানসেন, কাগিসো রাবাদা, রাইলি রুশো, তাব্রাইজ শামসি এবং ট্রিস্টান স্টাবস।
স্ট্যান্ডবাই: বিজর্ন ফর্টুইন, মার্কো জানসেন এবং আন্দিলে ফেলুকওয়ায়ো।
]]>




