বিনোদন

ওসির ফেসবুক পোস্টে বাকপ্রতিবন্ধী কিরণ খুঁজে পেলেন আপন ঠিকানা

<![CDATA[

পথহারা জসীমউদ্দিন কিরণ (৫৫) নামের এক বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীকে নিয়ে মো. জিয়ারুল ইসলাম নামে পুলিশের এক পরিদর্শক তার নিজ ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করার পর মুহূর্তেই তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে সেই পোস্ট থেকে আপন ঠিকানা খুঁজে পান পথহারা বাকপ্রতিবন্ধী ওই বৃদ্ধ। মো. জিয়ারুল ইসলাম ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত আছেন।

শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) ওসি জিয়ারুল নিজ খরচে ওই ব্যক্তিকে তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাপুরে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন।

আরও পড়ুন: হাসপাতালে মায়ের ফেলে যাওয়া সেই শিশু পেল নতুন ঠিকানা

জানা যায়, জসীমউদ্দিন কিরণের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের সামচুল হকের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামে আবুল খায়ের গ্রুপের একটি ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। চট্টগ্রামের ওই ফ্যাক্টরি থেকে ৭-৮ মাস আগে একটি বাসে করে নোয়াখালী জেলার নিজ বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেন। পথিমধ্যে ঘুমিয়ে গেলে ঢাকায় তাকে নামিয়ে দেন বাসের হেলপার। পরে অন্য একটি বাসে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় চলে আসেন। দীর্ঘদিন ভাঙ্গায় ঘুরাফেরা করার পর এক সংবাদকর্মীর মাধ্যমে ওসির নজরে আসেন তিনি। কিন্তু, জসীমউদ্দিন কিরণ বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার নাম-ঠিকানা কিছুই বলতে পারেননি ওসিকে।

পরবর্তীতে ওসি তার ছবি দিয়ে নিজ ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্ট বাকপ্রতিবন্ধী কিরণের পরিবারের নজরে পড়ে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ওসি জিয়ারুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে হলে তিনি নিজ খরচে গাড়িতে করে শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ওই বাকপ্রতিবন্ধীর নিজ বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর গ্রামে পাঠান। পরিবার একইদিন রাত ১০টায় তাকে হাতে পান।

আরও পড়ুন: মাদারীপুর /সড়কে পড়ে থাকা সেই শিশু খুঁজে পেল নতুন ঠিকানা

এ বিষয়ে পথ হারানো ওই প্রতিবন্ধীর ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওসির এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে আমার ভাই জসীমউদ্দিন কিরণের সন্ধান পাই। পরে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করে দীর্ঘ ৭- ৮ মাস পর আমার ভাইকে খুঁজে পেলাম। এ রকম মানবিক কাজের জন্য ওসিকে তিনি ধন্যবাদ জানান।’

শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা তিন ভাই ও দুই বোন। সে ভাইয়ের মধ্যে মেজো। কয়েকবছর আগে তার স্ত্রী তাকে (জসীমউদ্দিন কিরণ) রেখে চলে গিয়েছেন। পরে জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রামে আবুল খায়ের গ্রুপের একটি ফ্যাক্টরিতে ওয়ার্কার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ৭-৮ মাস আগে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন তিনি। পরে তাকে বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান করেও খোঁজ পাইনি। দীর্ঘদিন খোঁজ না পাওয়ায় ধরে নিয়েছিলাম আমার ভাই বুঝি আর বেঁচে নেই। এভাবে ভাইকে ফিরে পাওয়া আমাদের জন্য ভীষণ  আনন্দের।’

আরও পড়ুন: আকাশের নিচে নয়, তারা থাকবেন আপন ঠিকানায়

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য। তাই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে দায়িত্ব মনেকরি। এর আগেও অসংখ্য মানবিক কাজের অংশীদার হতে পেরেছি। ওই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী জসীমউদ্দিন কিরণকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমি নিয়মিত তার খোঁজ খবর রাখছি। যে কোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার চেষ্টা করছি।’

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!