বাংলাদেশ

কক্সবাজারে দুটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উৎঘাটন

<![CDATA[

কক্সবাজারের আলোচিত দুইটি পৃথক ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উৎঘাটন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার দুজনই আদালতে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

সোমবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। 

আরও পড়ুন: ৩২ বছর পর হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

 তিনি জানান, আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে একটি কক্সবাজার পৌরসভার মোহাজের পাড়ায় গত ১০ অক্টোবর রাতে সংঘটিত হয়। ওই দিন রাতে নিজ বাড়িতে গলা কেটে হত্যা করা হয় ওই এলাকার ফল বিক্রেতা মো. ওসমানকে (২৭)। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে কক্সবাজার শহরের বাদশার ঘোনার আবদুল জব্বারের ছেলে ইমাম হোসেন প্রকাশ ওরফে মিয়া হোসেনকে (২৭)। মিয়া হোসেন ও নিহত ওসমান পরস্পর বন্ধু।

পুলিশ সুপার আরও জানান, এ হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ কোনো প্রকার ক্লু না পেয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেন। এতে ৮ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকা থেকে ওসমানের বন্ধু ইমাম হোসেন প্রকাশ ওরফে মিয়া হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে পাওয়া যায় নিহত ওসমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন। মিয়া হোসেন পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে তারা পরস্পর বন্ধু। ঘটনার দিন গত ১২ অক্টোবর রাতে উভয়েই মদ খাওয়ার জন্য এক হাজার টাকার বাজি ধরে। কিন্তু ওসমান পুরো মদ খেতে না পেরে বাজিতে হেরেও মিয়া হোসেনের কাছে টাকা দাবি করে এবং একে অপরের সঙ্গে হাতাহাতি শুরু করে। এর জের ধরে ছুরি দিয়ে ওসমানকে গলা কেটে হত্যা করে মিয়া হোসেন। এরপর ওসমানের মোবাইল ফোনটি নিয়ে কবরস্থানে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখে মিয়া হোসেন। পরে মোবাইলটি উদ্ধার করে চালু করা হলে মিয়া হোসেনকে শনাক্ত করে পুলিশ। গ্রেফতার মিয়া হোসেনকে আদালতে পাঠালে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মতে দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়।

আরও পড়ুন: চার বছর পর ক্লুলেস হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

অপর হত্যাকাণ্ডটি কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর সংঘটিত হয়েছে। ওইদিন  কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং আকবর বলি পাড়ার ধানক্ষেত থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় মৃত ফেরদৌসের ছেলে মো. ইউনুস পেটানের (৩৮) মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এ ঘটনায় দিল জাহানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দিল জাহান নিহত ইউনুসের স্ত্রী।

আরও পড়ুন: বিশ্বজিৎ হত্যা: যাবজ্জীবনের আসামি ১০ বছর পর গ্রেফতার

পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে স্ত্রী দিল জাহান আত্মগোপনে থাকলেও পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করেছে কয়েকদিন আগে। গত রোববার (৮ জানুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে চট্টগ্রামের ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী পকেট গেইটস্থ ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। দিল জাহান স্বীকার করেছে পরকীয়ার কারণে সে স্বামীকে হত্যা করেছে। দিলজাহানকে আদালতে পাঠানো হলে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। 

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!