খেলা

কথা রাখেননি রোনালদো!

<![CDATA[

শীর্ষস্তরের ফুটবলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে গেছে তা বলাই যায় এখন। সম্প্রতি তিনি ২০০ মিলিয়ন ইউরো পারিশ্রমিকে যোগ দিয়েছেন সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসেরে। ম্যামথ আকারের এই চুক্তিতে যেমন সকলের চক্ষু চড়কগাছ, তেমনি সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে চলছে রোনালদোকে নিয়ে হাস্যরস। মূলত বিশ্বকাপের আগে পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া তার সমালোচিত-আলোচিত সাক্ষাৎকারের পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে নিয়ে চলছে ট্রল। নিজের দেওয়া কথার সঙ্গেই সাংঘর্ষিক কাজ করেছেন তিনি।

সৌদি পেশাদার লিগের দল আল নাসেরে যোগ দিয়েছেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার এই দলবদল চমকে দিয়েছে ফুটবলবিশ্বকেই। কারণ বিশ্বকাপের আগেও ইউরোপের শীর্ষ লিগ ও জাতীয় দলের হয়ে খেলার প্রত্যয় জানিয়েছিলেন ৩৭ বছর বয়সী পর্তুগিজ তারকা।

 

বিশ্বকাপের আগে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টার পিয়ার্স মরগানকে সাক্ষাৎকার দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন রোনালদো। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি তার তৎকালীন দল ও কোচ এরিক টেন হ্যাগের কঠোর সমালোচনা করেন। সে সাক্ষাৎকারেই তিনি জানিয়েছিলেন তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও। জানিয়েছিলেন, শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে নিজের ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার কথাও। সে সময়ই বলেন, টাকার কথা তিনি ভাবেন না।

আরও পড়ুন:রোনালদোকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত সৌদি সমর্থকরা

শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) আল নাসেরের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার পর ব্যপক ট্রলের মুখে পড়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলার। অতীতে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তার বলা কথার জের ধরে সমালোচনা করা হচ্ছে আল নাসেরে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের।

শুধু পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া সাক্ষাতকারেই নয়, এর আগে ২০১৫ সালে জোনাথন রসের শোয়েও একই ধরনের কথা বলেছিলেন রোনালদো। সেই অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি শীর্ষে থাকা অবস্থাতেই শেষ করতে চাই। আমি সম্মানের সঙ্গে একটা ভালো ক্লাবে শেষ করতে চাই।’

পিয়ার্স মরগানকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর ইউনাইটেড থেকে এক রকম বিতাড়িতই হয়েছেন তিনি। পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ক্লাব তার সঙ্গে চুক্তি ছিন্ন করে। এরপর থেকেই ক্লাবের সন্ধানে থাকলেও তাকে দলে নিতে ভরসা করেনি কোনো শীর্ষ ক্লাব। এমন সময় সৌদি লিগের দল আল নাসেরের পক্ষ থেকে চুক্তির প্রস্তাব এলেও সেখানে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা বারবার নাকচ করে দেন তিনি। তবে শেষমেশ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিকের রেকর্ড গড়া চুক্তিতে সৌদি আরবের লিগেই পাড়ি জমান তিনি। এর সঙ্গেই সমাপ্তি ঘটে ইউরোপে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যুগের।

আরও পড়ুন:মেসিকে প্রথমে আনতে চেয়েছিলেন আল নাসের কোচ

ইউরোপ ছেড়ে এশিয়ার ফুটবলে পারি জমানোটাকে অনেকেই মেসি-রোনালদো রাইভালরির সমাপ্তি হিসেবে গণ্য করছেন। দীর্ঘ দেড় যুগ ফুটবল বিশ্বে রাজত্ব করেছেন এই দুই মহারথী। তবে শেশবেলায় এসে মেসির কাছে যেন হারই মেনে নিলেন পর্তুগীজ কিংবদন্তি। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে পর্তুগালকে বিশ্বকাপ জেতানোর স্বপ্ন দেখলেও কাতার বিশ্বকাপটা বিস্মরণযোগ্য কেটেছে তার। প্রথম দুই ম্যাচের পর বাদ পড়েন দলের সেরা একাদশ থেকে। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে বেঞ্চ থেকে নেমেও হার ঠেকাতে পারেননি দলের।

অন্যদিকে, ৭ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হওয়া মেসি ৩৬ বছর পর দলকে জিতিয়েছেন বিশ্বকাপ শিরোপা। যা নতুন করে উস্কে দিয়েছে সর্বকালের সেরার পুরনো বিতর্কটাকেই। 

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!