কসভো সীমান্তে সেনা বাড়ানোর নির্দেশ সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের
<![CDATA[
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই এবার সার্বিয়া-কসভো সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ন্যাটোর হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই কসভো সীমান্তে সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচ। খবর আল-জাজিরার।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, কসভোর রাজধানী প্রিস্টিনায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পরই এ নির্দেশ দিলেন তিনি। আর উত্তেজনা বন্ধে সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ন্যাটো।
ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের কারণে এমনিতেই নানামুখী সংকটে ইউরোপ। এর মধ্যেই নতুন করে সার্বিয়া-কসভো সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আরও একটি যুদ্ধের শঙ্কায় বলকান অঞ্চল। স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভিডিওবার্তায় কসভো সীমান্তে সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচ।
ভুচিচ বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, একটা কঠিন সময় পার করছি। তবে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আর কোনো ছাড় নয়। নিজ দেশের জনগণের নিরাপত্তায় আমাদের সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো ত্যাগস্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
এরপর সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাতিসলাভ গাসিক বলেন, কসভোয় সার্বিয়ানদের নিরাপত্তায় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত নিরাপত্তা বাহিনী। পরে সীমান্ত এলাকায় শুরু হয় সামরিক মহড়া। জড়ো করা হচ্ছে ভারী অস্ত্র। কসভো সীমান্ত থেকে মাত্র আড়ইশ মিটার দূরে চলছে ফায়ারিং। আরও একটি যুদ্ধের আশঙ্কায় দিন পার করছেন অঞ্চলটির বাসিন্দারা। তাদের ধারণা, যেকোনো মুহূর্তে কসভোয় আবারও শুরু হতে পারে হত্যাযজ্ঞ।
আরও পড়ুন: কসোভোয় সেনা পাঠাতে ন্যাটোর অনুমতি চায় সার্বিয়া
এদিকে সংঘাত বন্ধে সার্বিয়াকে সর্বোচ্চ সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ন্যাটো। যেকোনো ধরনের সংঘাত-সহিসংতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। আর উত্তেজনা বন্ধে কসভোকে রাজনৈতিক উপায়ে সমাধানের পথ বেছে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
২০০৮ সালে সার্বিয়া থেকে আলাদা হয়ে কসভোকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ কসভোকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও সার্বিয়া এখনও তা মেনে নেয়নি। চীন ও রাশিয়া কসভোকে সার্বিয়ার একটি প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। দীর্ঘদিনের সংঘাত বন্ধে কসভোয় বর্তমানে ন্যাটোর শান্তিরক্ষী মোতায়েন রয়েছে।
]]>




