কাশ্মীরে ফের আক্রান্ত হিন্দু পণ্ডিত
<![CDATA[
হিন্দু পণ্ডিত নিহতের ঘটনায় আবারও উত্তপ্ত জম্মু-কাশ্মীর। শনিবার (১৫ অক্টোবর) কাশ্মীরের সোপিয়ান জেলায় পুরাণকৃষাণ নামে এক হিন্দু পণ্ডিতকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। পরে ওই হত্যার দায় স্বীকার করে কাশ্মীর ফ্রিডম ফাইটার নামের এক সংগঠন। খবর দ্য হিন্দু।
স্থানীয় সময় শনিবার কাশ্মীরের সোপিয়ান জেলায় কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন পুরাণকৃষান। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় একদল অস্ত্রধারী। হাসপাতালে নেয়া হলে মৃত ঘোষণা করে চিকিৎসক।
হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে কয়েকশ মানুষ। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। তারা বলেন, একের পর এক টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হচ্ছেন হিন্দু পণ্ডিতরা।
স্থানীয় একজন বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমি বাগানে কাজ করছিলাম। তখন উনি স্কুটি নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে গুলি করা হয়। এসে দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
পুরানকৃষাণ একজন আপেল চাষী। তার এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। তারা পড়াশোনা করছে।
আরও পড়ুন: কাশ্মীর ছাড়তে চান ভীত পণ্ডিতরা
কাশ্মীর পুলিশ বলছে, হত্যার দায় স্বীকার করেছে কাশ্মীর ফ্রিডম ফাইটার নামের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। হিন্দু পণ্ডিতদের রক্ষায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানায় কাশ্মীর পুলিশ। হামলাকারীদের ধরতে চলছে সাঁড়াশি অভিযান।
পুলিশ কর্মকর্তা সুজিত কুমার বলেন, হত্যার কারণ জানতে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তার জন্য আমরা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিলাম। তারপরও হামলার ঘটনা ঘটল। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা বলেছেন, সোপিয়ানে পুরাণকৃষান ভট্টের ওপর সন্ত্রাসী হামলা একটি কাপুরুষোচিত কাজ। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করে এক বার্তায় বলেন, আমি জনগণকে আশ্বস্ত করছি যে সন্ত্রাসীদের এবং যারা তাদের সাহায্য করে এবং প্ররোচনা দেয় তাদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে।
আরও পড়ুন: কাশ্মীরে হিন্দু পণ্ডিতরা কি ‘টার্গেট কিলিংয়ের’ শিকার?
এর আগে গত ১৬ আগস্ট একই এলাকায় অস্ত্রধারীদের হামলায় প্রাণ হারান আরও এক হিন্দু পণ্ডিত। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও হামলার ঘটনা ঘটল। কাশ্মীরে হিন্দু পণ্ডিতদের অধিকাংশই শিক্ষক ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী হামলার কারণে ১৯৮৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি হিন্দু পণ্ডিত কাশ্মীর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
]]>



