কাস্তিলোকে অভিশংসনের পর বিক্ষোভে উত্তাল পেরু
<![CDATA[
পেদ্রো কাস্তিলোকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অভিশংসনের পর বিক্ষোভে উত্তাল পেরু। বৃহস্পতিবার (০৮ ডিসেম্বর) রাজধানী লিমাসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন কাস্তিলোর সমর্থকরা। এর মধ্যেই মেক্সিকোর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন পেরুর সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট কাস্তিলো। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
বিক্ষোভে উত্তাল পেরুর বিভিন্ন এলাকা। নিরাপত্তা বাহিনী ও জনগণের মধ্যে চলছে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিলোকে অভিশংসনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারও রাজধানী লিমাসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন কাস্তিলোর সমর্থকরা। এ সময় পুলিশি বাধার মুখে পড়েন তারা। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। জবাবে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন বিক্ষুব্ধরা। পুলিশের টিয়ারশেলে বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ছাড়া গ্রেফতারও করা হয় অনেককে।
বিক্ষুব্ধদের দাবি, কাস্তিলো সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাকে অন্যায় ভাবে অভিশংসনের পর গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের মুক্তির দাবিও তোলেন তারা।
আরও পড়ুন: পেরুর ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টকে আশ্রয় দেবে মেক্সিকো
দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন সদ্য শপথ নেয়া দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন ও প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট দিনা বলুয়ার্তে। এ সময় দেশজুড়ে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ৬০ বছর বয়সী দিনা পেরুর ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। তিনি ২০২৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে ক্ষমতাচ্যুত পেরুর সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিলোকে আশ্রয় দেয়ার কথা বিবেচনা করছে মেক্সিকো। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। গত বুধবার (০৭ ডিসেম্বর) নাটকীয়ভাবে পেরুর পার্লামেন্টে অভিশংসনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় কাস্তিলোকে। পরে, আইনজীবীর মাধ্যমে মেক্সিকোতে আশ্রয় চেয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টের কাছে চিঠি পাঠান তিনি।
আরও পড়ুন: অভিশংসনে ক্ষমতাচ্যুত হলেন পেরুর প্রেসিডেন্ট
পেদ্রো কাস্টিলোকে আশ্রয় দেয়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্ড। তিনি বলেন, পেরুতে নিযুক্ত মেক্সিকান রাষ্ট্রদূত পাবলো মনরয় লিমাতে কাস্টিলোর সঙ্গে দেখা করেছেন। আশা করি, কাস্টিলোকে আশ্রয় দেয়ার সব প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে।
কয়েক বছর ধরে ব্যাপক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলছে দক্ষিণ আমেরিকার এ দেশটিতে। এ দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের পর থেকে কাস্তিলোসহ পেরুর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন পাঁচজন।
]]>




