ফিচার

কিশোরগঞ্জে বাবুই পাখির তিলোত্তমা রূপের শিল্প অহংকার অট্রালিকা বিলুপ্তির পথে

‘আনোয়ার হোসেন-কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ

ডিজাইন, প্লান আর প্রাক্কলন ছাড়াই অট্টালিকা   বুননে  দক্ষ প্রকৌশলী পাখির নাম বাবুই পাখি।তৃণভোজী এ পাখি প্রকৌশলী বিদ্যায় অধ্যায়ন না করেও অট্টালিকা বুননের  দক্ষ প্রকৌশলী  ও বয়ান শিল্পী পাখি হিসেবে পরিচিত সবার কাছে।

প্রকৃতি তাকে শিখিয়েছেন এ বিদ্যার কারিগরি জ্ঞান।প্রকৃতির বিদ্যায় দক্ষ এ পাখি তাল,নারিকেল, সুপারী গাছের কচি মিহি পাতা দিয়ে মনের মাধুরি মিশিয়ে  হাজারো ঠোঁটের সুঁইয়ের ফোঁড়ে আস্ত আবরণে সুনিপুণ কারুকার্যে খচিত ওই গাছের একদম উচু পাতায় নয়ানাভিরাম, তিলোত্তমা রূপে বাসা বাঁধে।

তার নিখুঁত গাঁথুনির অট্টালিকা দেখে থমকে দা্ঁড়ায় পথিকের মন। আর সুরেলা কন্ঠের কিচিরমিচির গানে বিমোহিত হন আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই। কবি রজনীকান্ত সেন স্বাধীনতার সুখ কবিতায় লিখেছেন, ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়েঘরে থাকি কর শিল্পের বড়াই, আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকার পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ-বৃষ্টি ঝড়ে, বাবুই হাসিয়া কহে সন্দেহ কি তায়?, কষ্ট পাই তবু থাকি নিজের বাসায়।

অট্টালিকায় বড়াই করা এ পাখি একটা সময় শহর থেকে গ্রাম, মফস্বল এলাকায় অবাধ বিচরণের মাঝে  কিচির মিচির শব্দ আর খুনসুটিতে ভোর রাতে ঘুম ভাঙতো সাধারণ মানুষের। কিন্তু কবিতায়  চিরচেনা বাবুই পাখির স্বাধীনতা আর সুখ দু-ই আজ হুমকির মুখে।কবি রজনীকান্ত সেন  কবিতাটি রচনা করেন মুলতঃ আত্মনির্ভরশীল পাখির সাদৃশ্যের দৃষ্টান্তের  মাঝে মানুষকে মানবিকভাবে জাগ্রত করে নিজেকে  আত্মপ্রত্যয়ী করে গড়ে তোলার  জন্য।  বাবুই পাখিকে নিয়ে কবিতাটি আজোও মানুষের উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করলেও হারিয়ে যেতে বসেছে বাবুই পাখি ও তার নিজ ঠোঁটের সুঁইয়ের ফোঁড়ে গড়া কাঁচা খাসা ঘর।

বাবুই পাখির বাসা আজ অনেকটাই স্মৃতির অন্তরালে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অথচ আজ থেকে ১০/১৫ বছর আগেও গ্রাম-গঞ্জের নৈসর্গিক প্রকৃতির তাল, নারিকেল ও সুপারীর গাছে দেখা যেত বাবুই পাখির  দৃষ্টিনন্দন বাসা।নীলফামারী কিশোরগঞ্জে বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদে এখন আর আগের মত বাবুই পাখির দৃষ্টিনান্দনিক বাসা চোখে পড়েনা।

এসব বাসা শুধু শৈল্পিক নিদর্শনই ছিল না মানুষের মনে চিন্তার খোরাক জোগাতে এবং স্বাবলম্বী হতে উৎসাহিত করত।কিন্তু সময়ের বিবর্তনে ও পরিবেশের বিপর্যয়ের কারণে শিল্পের বড়াই করা  এ পাখিটি আমরা হারাতে বসেছি।তাকেও চড়াইয়ের মত আবদ্ধ করেছে অট্টালিকার পরে। তাই বাবুই পাখি ও তার বাসা টিকিয়ে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসি।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!