খেলা

কৃষিতে উৎপাদন বাড়লে আমদানিতে খরচ কমবে

<![CDATA[

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেছেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন যত বাড়বে, আমদানিতে তত খরচ কম হবে। এতে ডলারও বাঁচবে।

সম্প্রতি সময় সংবাদকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ‘যেহেতু আমাদের উৎপাদন ভালো হচ্ছে এবং কৃষির ওপর অনেক জোর দেয়া হচ্ছে, তাই এটি আমদানির বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। খাদ্যে সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলা করার জন্যই মূলত আমদানি করা হচ্ছে। ফলে সেই জায়গায় সরকারের নীতি ঠিক আছে। তবে সরকারকে অবশ্যই একটু বুঝে শুনে আমদানি করতে হবে।’

তবে কৃষকদের জন্য সরকার যেসব সুযোগ-সুবিধা রাখছে, সেগুলো তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকরা কতটা পাচ্ছেন, সেটি তদারকির জন্য কর্মকর্তাদের তাগিদ দেন তিনি। 

তাহলেই সরকারের সব রকমের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার সুফল মিলবে বলে জানান এই অর্থনীতিবিদ।

ঋণের পাওয়ার বিষয়ে এক কৃষক সময় সংবাদকে বলেন, আমি দুই লাখ টাকা ঋণের জন্য ব্যাংকে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু তারা আমার কাছে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ চান। এরপরে আমি আর ঋণ নেইনি। পরে নিজের কিছু জায়গা বিক্রি করে কৃষি কাজ শুরু করেছি।  

আরও পড়ুন: আমরা করদাতাদের কাছে ঋণী: অর্থমন্ত্রী

উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে আরেকজন কৃষক বলেন, সবকিছুর দাম বেশি। কৃষকের টাকাও (পারিশ্রমিক) বেশি। এতে আমাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। কিন্তু সে তুলনায় তো বাজারে দাম পাচ্ছি না। এখন যা দুই তিন টাকা লাভ হবে, সেটি দিয়ে তো আর সংসার চলবে না।

এদিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষিতে উৎপাদন ধরে রাখতে সব রকম পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের বিজ্ঞানীরা আরও উচ্চ ফলনশীল নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করছে।

কৃষকদের স্মার্টকার্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, স্মার্টকার্ড তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। খুব দ্রুত কৃষকরা এটি পাবেন। এর পরে আশা করি আমরা চলমান (কৃষি) অব্যবস্থাপনা অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারব। এতে উৎপাদনও বাড়বে।

আরও পড়ুন: কৃষিঋণ সহজ করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

সারা বিশ্ব যখন খাদ্য সংকটের আভাস দিচ্ছে। আন্তার্জাতিক বাজারে সব পণ্যের দাম বাড়ছে। তখনও ভরসার জায়গা সেই কৃষি ও কৃষক। তাই সরকারও বলছে, এক টুকরো জমিও ফাঁকা রাখা যাবে না। যদিও সার, বীজের দাম চড়া। যার কারণে বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। তবু সামাল দেয়ার চেষ্টায় কৃষি ঋণ বিতরণের পাশাপাশি উৎপাদন ঠিক রাখতে যথাসম্ভব ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রতিনিয়ত কমছে কৃষি জমি আর বাড়ছে উৎপাদন খরচ। এদিকে কৃষকরা বাজারে সঠিক দামও পাচ্ছেন না। এমন সব অসুবিধা বয়ে নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন কৃষক।

দেশের মোট আমদানির ১০ থেকে ১১ শতাংশ ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টন চাল, ডাল, গম আমদানি হয়েছে। যা আগের বছরের চেয়ে কম।

এদিকে ধান উৎপাদনে তৃতীয়, আলুতে ষষ্ঠ, সবজিতে তৃতীয়, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে তৃতীয়, ইলিশ উৎপাদনে প্রথম, পেঁয়ারা-কাঁঠাল-আম উৎপাদনেও বিশ্বের সেরা দশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নাম।
 

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!