ক্ষত কাটিয়ে ওঠা সত্ত্বেও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শঙ্কা
<![CDATA[
অতিবৃষ্টি ও চা শ্রমিকদের আন্দোলনের ক্ষত কাটিয়ে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) দেশে চা উৎপাদন সার্বিকভাবে ভালো হলেও দেশের সর্বোচ্চ চা উৎপাদনকারী জেলা মৌলভীবাজারের চা উৎপাদন অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। এতে আগামী তিন মাসের চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা। তবে চা-বোর্ড বলছে, বৈরী আবহাওয়া বিরাজ না করলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে।
বর্তমানে বাগান থেকে চা পাতা তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চা শ্রমিকরা। এ বছর চা উৎপাদনের শুরুতেই অতিবৃষ্টি দেশের চা শিল্পে ব্যাপক ক্ষতি বয়ে আনে। এরপর চা উৎপাদনের ভরা মৌসুম আগস্টে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের টানা ১৯ দিনের আন্দালন পুরো চা শিল্পে স্থবিরতা নিয়ে আসে।
পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুসারে, সরকারের নানা উদ্যোগের পাশাপাশি বাগান মালিক, চা ব্যবসায়ী ও সর্বোপরি শ্রমিকদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় চা শিল্প সাময়িক এ ক্ষতি কাটিয়ে এখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এক কোটি ৪৭ লাখ ৪ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। যা অতীতের যে কোনো মাসের উৎপাদন রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এ বছর সেপ্টেম্বরে গেল বছরের একই মাসের চেয়ে ১৭ শতাংশ চা উৎপাদন বেশি হয়েছে। চা শিল্পে নানা প্রতিবন্ধকতার পর চলতি বছরের নয় মাসে এসে দেশে চায়ের সার্বিক উৎপাদন ভালো।
তবে দেশের সর্বোচ্চ চা উৎপাদনকারী জেলা মৌলভীবাজারে এ বছর অনুকূল পরিবেশ না থাকায় সাধারণ উৎপাদনের চেয়ে প্রত্যেকটি বাগানে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ উৎপাদন কম হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
মৌলভীবাজারের এক চা বাগান ব্যবস্থাপক বলেন, বছরের শুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে আমাদের উৎপাদন ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে আগস্টে শ্রমিক ধর্মঘটের কারণেও উৎপাদন ভালো হয়নি।
আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরে চা উৎপাদনে রেকর্ড
আরেক ব্যবস্থাপক বলেন, আমরা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত পাচ্ছি। কিন্তু রেকর্ড উৎপাদন হবে না। তবে আমরা কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে যাব।
এদিকে শ্রীমঙ্গলের ক্লোনেল চা-বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মনসুরুল হক জানান, এ বছর চায়ের উৎপাদন ঘাটতি কোনোভাবে পূরণ হবে না। দীর্ঘ ১৯ দিন চা বাগান বন্ধ থাকায় চা শিল্পের যে ক্ষতি হয়েছে, তা বর্তমানে কাটিয়ে উঠা অসম্ভব।
তবে আগামী ৩ মাস বৈরী কোনো আবহাওয়া বিরাজ না করলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে বলে জানান বাংলাদেশ চা বোর্ড এর প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. এ. কে. এম. রফিকুল হক।
বাংলাদেশ চা-বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে, ২০২২ সালে ৯ কোটি ৭০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চলতি বছরের ৯ মাসে ১৬৭টি চা বাগানে ৬ কোটি ৩৮ লাখ ৩ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে।
]]>




