বাংলাদেশ

খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পুষ্টির অভাবে ব্রিটেনের শিশুরা

<![CDATA[

ইউক্রেন যুদ্ধ ও কোভিড লকডাউন পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জেরে সারা বিশ্বে দেখা দিয়েছে নজিরবিহীন সংকট। বিশেষ করে খাদ্য ও জ্বালানি সংকটে ভুগছে কমবেশি বিশ্বের সব দেশই। বাংলাদেশের মতো বিশ্বের উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে এর প্রভাব ইতোমধ্যেই অনুভূত হলেও সংকটের বাইরে নয় ব্রিটেনের মতো বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও। ইতোমধ্যেই জ্বালানি ও খাদ্যের দামের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভুগছে এই উন্নত দেশগুলোর বিপুল সংখ্যক জনগণ।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে। দেশটিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দামসহ বেড়ে গেছে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের দাম। ফলে সেখানে এখন রেকর্ড মূল্যস্ফীতি। ব্রিটেনে সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ১০ দশমিক ১ শতাংশে। যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খাদ্যের দাম। সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় অক্টোবর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তির দিকে। ব্রিটেনে অক্টোবর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ছয় শতাংশ। অথচ সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্য মূল্য সূচক ছিল ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসহ দুধ, চিনি, ফলমূল, শাক সবজি ও চাসহ অন্যান্য খাবারের দাম বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হারে।

বিশেষ করে শাকসবজি ও ফলমূলের দাম প্রতি মাসে বেড়েই চলেছে। সেপ্টেম্বর মাসেও ফলমূল ও শাকসবজির দামের মূল্যস্ফীতি ছিল ১২ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু অক্টোবরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

সম্প্রতি ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়াম বা বিআরসি এবং জরিপ সংস্থা নিলসনের করা জরিপের এ তথ্য প্রকাশ করে ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ান।

এমনকি পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে ব্রিটিশ শিশুদের মধ্যে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে ব্রিটেনের ২৫ শতাংশ পরিবার তাদের শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্যের যোগান দিতে পারছে না। এমনকি প্রয়োজনীয় খাদ্যের যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও।

এ পরিস্থিতিতে খাদ্যের জন্য বিভিন্ন বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোতে ভিড় বাড়াচ্ছে খাদ্যের অভাবে ভুগতে থাকা অনেক পরিবারই।

এ ব্যাপারে বিআরসির প্রধান নির্বাহী হেলেন ডিকিনসন বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলো ব্রিটিশ ভোক্তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তাদের শুধু বাড়তি জ্বালানির বিলই গুণতে হচ্ছে না, একই সঙ্গে নিত্যপণ্যও দিন দিন দুর্মূল্য হয়ে পড়ছে তাদের জন্য।

জিনিসপত্রের দাম বাড়ার জন্য ব্রিটেনের ব্যবসায়ী ও গ্রোসারি মালিকরা দায় চাপাচ্ছেন পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধিকে। এর সাথে যোগ হয়েছে বাড়তি জ্বালানির মূল্য। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন তারা। এই অবস্থা বজায় থাকলে সামনের দিনগুলোতে খুচরা বিক্রেতা ও ভোক্তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হবে বলে মনে করছেন তারা।

পাশাপাশি অদূর ভবিষ্যতে ব্রিটেনে জিনিসপত্রের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

এ ব্যাপারে ব্রিটেনের সুপারমার্কেট চেন আসডার সাবেক প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি ক্লার্ক বলেন, খাদ্য মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির উন্নতি হবে সে সম্ভাবনা সুদূরপরাহত।

বিবিসি রেডিও ফোরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এবারের শীত মৌসুম ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য কঠিন হবে। আমরা দেখছি মূল্যস্ফীতি ডাবল ডিজিট পেরিয়ে গেছে। নিকট ভবিষ্যতে তা কমার কোনো সম্ভাবনাও আমরা দেখতে পাচ্ছি না।

আগামী বড়দিন ব্রিটেনের অধিকাংশ পরিবারের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই বড়দিনে আনন্দ করতে চায় কিন্তু আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি হ্রাসের কোনো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না। আসন্ন শীত তাই খুব কঠিন হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি পরিষ্কারভাবে বাড়তি বোঝা চাপাচ্ছে পরিবারগুলোর ওপর।

ব্রিটিশ ভোক্তা অধিকার সংগঠন হুইচ এর হেড অফ ফুড পলিসি সু ডেভিস বলেন, এই মুহূর্তে বেড়ে যাওয়া খাদ্যের দামই মূল উদ্বেগের বিষয়। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে এ মুহূর্তে কোটি কোটি নাগরিক তাদের খাবার টেবিলে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনকি প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার খেতেও বাধ্য হচ্ছেন তারা।

বাংলাদেশেও বেড়ে যাওয়া খাদ্যের মূল্যের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জনগণ। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার এই প্রবণতা শুধু বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্যই কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে না, বরং উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর জন্যও তা বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্রিটেনের স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে আসছে সেটাই।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!