গ্রাম আদালতের সুফল পাচ্ছেন নাটোরবাসী
<![CDATA[
পারিবারিক কিংবা প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে। দেশের প্রচলিত আদালতের আদলে পরিচালিত এ গ্রাম আদালতে ছোট ছোট সমস্যার সমাধান হচ্ছে দ্রুত। বিচারিক আদলে এটি পরিচালিত হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের প্রশিক্ষণের দাবি করছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি। আর প্রশিক্ষণে উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
নাটোর জেলার ৫২টি ইউনিয়ন পরিষদে সপ্তাহের নির্ধারিত দিনে গ্রাম আদালতের বিচারপ্রার্থী ও অভিযুক্তরা উপস্থিত হন। দেশের প্রচলিত আদালতের আদলে বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হয় ইউনিয়ন পরিষদের এ গ্রাম আদালতে। তবে গ্রাম আদালতের বিচারকার্য পরিচালনা করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। আর উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন করেন পরিষদের সদস্য এবং বাদী-বিবাদী নিজেরাই। বিনা খরচে খুব দ্রুত সময়ে পারিবারিক ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ছোট ছোট বিরোধ কিংবা জমি সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়ায় খুশি গ্রামবাসী।
সদর উপজেলার তেবাড়িয়া ইউনিয়নে একডালা গ্রামের বিচারপ্রার্থী শাহিন জানান, তার এক প্রতিবেশীর সঙ্গে দীর্ঘদিন জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। গ্রাম আদালতে দুই টাকা ফি দিয়ে আবেদন করে সমস্যার সমাধান পেয়েছেন তিনি। এতে সন্তুষ্ট তিনি।
তেবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক জানান, ২০০৬ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাম আদালত পরিচালিত হয়। উভয় পক্ষরে বক্তব্য উপস্থাপনের পর গ্রাম আদালতে উপস্থিত উভয় পক্ষের লোকজন নিয়ে কমিশন গঠন করেন ইউপি চেয়ারম্যান। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান অভিযোগের নিষ্পত্তি করেন।
আরও পড়ুন: রাজমিস্ত্রির কাজ করা রাবি শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিলেন মেয়র লিটন
ওমর ফারুক আরও বলেন, গ্রাম আদালতে সরকার নির্ধারিত দুই টাকা ও চার টাকা ফি প্রদান করে আবেদন করতে হয়। বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাদী ও বিবাদীকে নোটিশ করে ডাকা হয়। গ্রাম আদালতে উভয় পক্ষের কথা শুনে জুরি বোর্ডের মধ্যে সমস্যার সমাধান করা হয়।
নাটোর জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জানান, গ্রামের ছোট ছোট বিষয় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে সমাধান হওয়ায় বিচারিক আদালতে কিছুটা চাপ কমেছে। এ ছাড়া দেশের প্রচলিত আদালতের ন্যায় এটি পরিচালিত হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের দাবি করেন তিনি।
নাটোর জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে গত মেয়াদে ও চলতি মেয়াদে নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা দক্ষ হয়ে উঠেছেন। তবে নতুনদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
জেলার ৫২টি গ্রাম আদালতে প্রতিবছর প্রায় আড়াই হাজার অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়।
]]>




