ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না ফেনী বিআরটিএ কার্যালয়ে
ফেনী | তারিখঃ October 12th, 2022 | নিউজ টি পড়া হয়েছেঃ 56 বার
বিশেষ প্রতিবেদক->>
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ফেনী কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা পরিশোধ না করলেই হয়রানি করা হয় গ্রাহকদের। গ্রাহকদের অভিযোগ, ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়া তো দূরের কথা, কোনো কাজই হয় না এই কার্যালয়ে। এতে জেলার বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবা নিতে গেলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ফেনীবাসীকে।
জানা যায়, ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ২য় তলার পশ্চিমে অবস্থিত বিআরটিএ কার্যালয়টি। ওই কার্যালয় থেকে যানবাহন ও মোটরসাইকেল নিবন্ধন, যানবাহনের রুট পারমিট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের সেবা নেন গ্রাহকরা। গত ছয় মাসে প্রায় দুই হাজার সাতশ মোটরযানের নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে ফেনীর বিআরটিএ কার্যালয় থেকে। আর ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে প্রায় তিন হাজার। সেই সঙ্গে মালিকানা হস্তান্তর হয়েছে প্রায় পাঁচশ। সবকটি কাজেই গ্রাহকদের দিতে হয়েছে কর্মকর্তাদের চাহিদা মোতাবেক ঘুষ।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করে অফিস স্টাফ জাহাঙ্গির আলম, নাসির উদ্দিন ও দালাল আরিফ, মামুন, সাইফুল ও সুজুকি জহিরকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন ইঞ্জিনিয়ার আবদুল্লাহ আল মামুন। বেআইনিভাবে সেবা প্রদানের নামে লাখ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করে যাচ্ছে সিন্ডিকেটটি। সেবা বাবদ সরকার নির্ধারিত ফি থেকে বিআরটিএর চক্রটি লাইসেন্সের জন্য সাত হাজার থেকে ১০ হাজার আর মোটরসাইকেল নিবন্ধনের জন্য নিচ্ছেন পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার অতিরিক্ত টাকা।
গত নভেম্বরে ১১০ সিসির একটি মোটরসাইকেল ক্রয় করেন বদরুল আলম নামে এক বেসরকারি কর্মচারী। মোটরসাইকেলটি নিবন্ধনের জন্য তার কাছে অতিরিক্ত তিন হাজার টাকা দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তখন সরকারি ফি ১২ হাজার ৮৬ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে বিআরটিএ কার্যালয়ে যান তিনি। কিন্তু বিআরটিএ কার্যালয়ে তার মোটরসাইকেল নিবন্ধনের কাগজপত্র না রেখে ফিরিয়ে দেন কর্মকর্তারা। গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার তিনি ওই কাগজ নিয়ে বিআরটিএ কার্যালয়ে যান। কিন্তু কেউ তার কাগজ জমা রাখেনি।
পরশুরাম এলাকার বাসিন্দা বজলুর রহমান। ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য গত মার্চ মাসে বিআরটিএ কার্যালয়ে যান। ওই কার্যালয়ের সহকারী মোটরযান পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম ও ডিজিটাল রেজি: অপারেটর নাসির উদ্দিন ওই যুবক থেকে আদায় করেন আট হাজার টাকা।
বজলুর রহমান বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত টাকা নিয়ে এক মাস ধরে ঘুরেছি। কেউ আমার আবেদন ফরম নেয়নি। অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার পর ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাগজপত্র ও আবেদন ফরম জমা রেখেছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক গ্রাহক বলেন, ‘সরকারি ফি জমা দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র জমা দিয়েছি। ব্যবহারিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে দুই বছর ধরে ঘুরছি, লাইসেন্স পাচ্ছি না। অথচ পরিচিত অনেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পাঁচ মাসের মধ্যে লাইসেন্স পেয়েছে। এভাবে সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিস চলতে পারে না।’
এ ব্যাপারে পরিবহন মালিক সমিতির কয়েক নেতা জানান, নিরাপদ সড়কের দাবি প্রত্যেকটি মানুষের। আর সড়ক নিরাপদ রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে বিআরটিএর। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির অসাধু কর্মচারী-কর্মকর্তারা টাকার বিনিময়ে অদক্ষ মানুষকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিচ্ছেন। আর তারা সড়কে গিয়ে মানুষ মারছে।
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ও গ্রাহকদের হয়রানির বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আবদুুল্লাহ আল মামুন নিজেকে মন্ত্রী ও বিআরটিএ চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ লোক দাবি করে বলেন, কিছু সুযোগসন্ধানী আমার বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত। এর চেয়ে বেশি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন তিনি।




