খেলা

চট্টগ্রামে গার্মেন্টসের দুর্দিন, কমছে ক্রেতা

<![CDATA[

পানি, বিদ্যুৎসহ অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় বিদেশি ক্রেতা হারাচ্ছেন চট্টগ্রামের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা। বন্দরের কাছাকাছি হওয়ার পরও কাজ আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। সাড়ে চার মাস ধরে এখানকার কারখানার প্রবৃদ্ধির হার নিম্নমুখী।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে চট্টগ্রাম নগরী। বন্দর নিকটবর্তী হওয়ায় আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের পুরো সুবিধা নিয়েছেন এখানকার গার্মেন্টস মালিকরা।

তবে সময়ের সাথে সাথে পুরো চিত্র যেন পাল্টে যাচ্ছে। কয়েক বছর ধরে এখানকার কারখানাগুলোতে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার কমছে। আর বিশ্বমন্দায় নানা সীমাবদ্ধতায় ধস নেমেছে গার্মেন্টস শিল্পে।

আরও পড়ুন: দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর

এক দশক আগেও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গার্মেন্টসের সংখ্যা ছিল সাতশর বেশি। যেখানে কর্মরত ছিলেন অন্তত ১৯ লাখ শ্রমিক। তবে এখন গার্মেন্টসের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে তিনশ-তে। আর শ্রমিক রয়েছে মাত্র ৮ থেকে ৯ লাখ।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ-র সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে চাইলেই বিনিয়োগ করা সহজ নয়। ঢাকায় একজন উদ্যোক্তা যে সুযোগগুলো পান, চট্টগ্রামে তা নেই। এ ছাড়া অবকাঠামোগত সুযোগ ও শিল্প প্লটের অভাব রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আর বিজিএমইএ-র পরিচালক মেরাজ-ই-মোস্তফা কায়সার জানান, অর্থনৈতিকভাবে লেনদেন কম হওয়ায় শ্রমিকদের মজুরি  দিয়ে ব্যবসা সমুন্নত রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে ২০২২ সালে বাংলাদেশ থেকে ৪৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে রফতানি হয়েছে ১ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

বিজিএমইএ-র তথ্যানুযায়ী, গত বছরের আগস্ট থেকে চট্টগ্রামের গার্মেন্টস কারখানাগুলোর রফতানি কমছে। চলতি বছরও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ-র সাবেক প্রথম সহসভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, শহরের আশপাশে বা একটু দূরের জায়গাগুলোর দাম অনেক বেড়ে গেছে। এখানে জমি কিনে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে গেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে শিল্পপণ্যের অভাব রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ অভাব পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সুফল আসবে না।

আরও পড়ুন: মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প কাজ এগিয়েছে ৭৫ শতাংশ

বর্তমানে ৪২৬ জন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর মধ্যে ১৮৮ জন সরাসরি বিদেশি বায়ারদের কাছ থেকে কাজের অর্ডার আনছেন। গার্মেন্টস পল্লি স্থাপনে মীরসরাই ইকোনমিক জোনে ৫০০ একর জায়গা বরাদ্দ হলেও পানি ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা গড়ে উঠতে পারেনি। একই অবস্থা নগরীর কালুরঘাট বিসিক শিল্প জোনেও।

বায়াররা ঢাকাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মন্তব্য করে বিজিএমইএ-র প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, বায়াররা অল্প অর্ডার নিয়ে ঢাকার মধ্যে ব্যবসা করতে চান। তবে তারা বাড়তি অর্ডার পেলেই কেবল চট্টগ্রামকে কাজে লাগান বলে জানান তিনি।

আর বিজিএমইএ-র পরিচালক এ এম মহিউদ্দিন বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি করতে হলে সরকারকে অবশ্যই নীতিগতভাবে চট্টগ্রামকে প্রাধান্য দিতে হবে।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!