বিনোদন

চট্টগ্রামে ফানুসের আলোয় উৎসবের আমেজ

<![CDATA[

চট্টগ্রামে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি উৎসবমুখর পরিবেশে ফানুস উৎসব করেছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। বিভিন্ন আকারের, নানা ধরনের ফানুস উড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয় পুরো নন্দনকানন এলাকাজুড়ে।

রোববার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরের নন্দনকাননের বৌদ্ধমন্দিরে ফানুস ওড়ানো হয়। এ ছাড়া নগরের কাতালগঞ্জের নবপণ্ডিত বিহার, পাথরঘাটা জেতবন শান্তিকুঞ্জ বিহার, ইপিজেড সর্বজনীন বৌদ্ধবিহার ও মৈত্রী বনবিহার, চান্দগাঁও সর্বজনীন বৌদ্ধবিহার, মোগলটুলী শাক্যমুনি বৌদ্ধবিহার, বন্দর বৌদ্ধবিহারসহ প্রায় প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে সকাল থেকেই নানা আয়োজন করা হয়।

জানা যায়, প্রবারণা শব্দের অর্থ আত্মনিবেদন। ফানুসকে বৌদ্ধধর্মের ভাষায় বলা হয় ‘আকাশ বাতি’। মূলত প্রবারণা পূর্ণিমায় আকাশে বাতি বা ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে বুদ্ধের অহিংসার বাণী ছড়িয়ে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুখ, শান্তি আর কল্যাণ কামনা করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।

শান্তির সেই বার্তা বিশ্বের সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয়ে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর নন্দনকাননের বৌদ্ধমন্দির থেকে ওড়ানো হয় কয়েক হাজার ফানুস।

আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন, চীবর দানোৎসব সোমবার

ঢোল, বাজনার মাধ্যমে উৎসবে মেতে উঠেন তরুণ, তরুণীরা। বর্ণিল আতশবাজির আলোকছটায় প্রকম্পিত হচ্ছিল পুরো এলাকা। এ সময় ফানুস ওড়াতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা গিয়ে জড়ো হন মন্দির প্রাঙ্গণে।

বিভিন্ন আকৃতির, আকারের ফানুস একের পর এক ভগবান বুদ্ধের উদ্দেশ্যে উড়িয়ে দেয়া হয়। কোনো ফানুসের আকার ছিল বালিশের মতো, আবার কিছু ছিল লম্বাকৃতির। ফানুসের আলোয় রঙিন হয়ে উঠে সেখানকার আকাশ। শুধু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাই নয়, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতি উৎসবের আমেজ পায় পুরো নন্দন কানন এলাকা।

আরও পড়ুন: উৎসাহ-উদ্দীপনায় চলছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমা

এ সময় আর্যমিত্র সংগঠনে সদস্যরা জানান, এ দিনটার জন্য প্রতি বছর তারা অপেক্ষা করে থাকেন। এক মাসেরও বেশি সময় কাজ করে এ ফানুসগুলো ভগবান বুদ্ধের উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছে।

ফানুস উত্তোলন উৎসব দেখতে গিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় জানান, সকল অপশক্তিকে দূরীভূত করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় নেয়া হয়েছে সকল ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদ এ মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠান। এ ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ছিল লক্ষ্মীপূজা। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ছিল প্রবারণা পূর্ণিমা। সুন্দরভাবেই ও উৎসবমুখর পরিবেশে সকল অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। 

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!