চাঁদপুরে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকউল্লাহ খুন, আটক ১
<![CDATA[
চাঁদপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকউল্লাহ (৭০) দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে শহরের লন্ডনঘাট এলাকায় সকিনা আবাসিক হোটেলের পাশে এ ঘটনা ঘটে। চাঁদপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সুদীপ্ত রায় জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা পুলিশের সঙ্গে সিআইডি ও পিবিআই যৌথভাবে কাজ করছে। এরইমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রফিকউল্লাহের বাড়ির কেয়ারটেকার মিরাজ হোসেনকে আটক করা হয়েছে।
রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পিঠে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে তাকে হত্যা করেছে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা। ধারনা করা হচ্ছে, এসময় বাসায় তিনি একা ছিলেন। এর আগে সন্ধ্যায় রফিকউল্লাহর তিনতলার বাসার দরজা খোলা দেখে ভেতরে প্রবেশ করেন তার বড় ভাইয়ের ছেলে তন্ময়। তিনি দেখতে পান, রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন তার চাচা। তবে কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এরইমধ্যে হত্যার কারণ খুঁজতে পুলিশের কয়েকটি দল তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা রফিকউল্লাহ নিহতের সংবাদ পেয়ে দলীয় সতীর্থ ও স্বজনরা তার বাসা ও হাসপাতালে ভিড় করেন।
এলাকাবাসী ও তার রাজনৈতিক সতীর্থরা জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকউল্লাহ একজন সহজ সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তার কোনো শত্রু থাকতে পারে না। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দীন আহমদ বলেন, রফিক ভাইকে যারা এভাবে হত্যা করেছে তারা কতটা নিষ্ঠুর তা না দেখলে বুঝতাম না।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে ভাতিজার বিরুদ্ধে চাচাকে খুনের অভিযোগ
সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল বলেন, নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের এখনই খুঁজে বের করতে হবে।
অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশের একাধিক সংস্থা। এরইমধ্যে তারা আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
চাঁদপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সুদীপ্ত রায় জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা পুলিশের সঙ্গে সিআইডি ও পিবিআই যৌথভাবে কাজ করছে। এরইমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রফিকউল্লাহর কেয়ারটেকার মিরাজ হোসেনকে আটক করা হয়েছে। আরও কয়েকজনের প্রতিও নজরদারি রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, ব্যক্তিজীবনে বেশ অমায়িক স্বভাবের মানুষ ছিলেন রফিকউল্লাহ। তিনি অবিবাহিত ছিলেন।
চাঁদপুর শহরের লন্ডনঘাট এলাকায় তাদের পারিবারিক ব্যবসা সকিনা আবাসিক হোটেলের পাশে তিনতলার একটি বাসায় একাই বসবাস করতেন। রফিকউল্লাহ একটি বরফ কলের মালিক ছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তার বড় ভাই জাবেদ হোসেন শত্রুবাহিনীর হাতে শহীদ হন।
]]>




