বিনোদন

চীনে করোনা বিধিনিষেধ তোলায় বিভ্রান্তি, ক্ষোভ

<![CDATA[

চলতি মাসেরে শুরুতে চীনের শিজিয়াজুয়াংয়ে কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপের সঙ্গে লকডাউন দেয়া হয়। এ সময় উত্তর চীনের এই শহরটিতে অল্প সংখ্যক কোভিড সংক্রমণ ছিল। কিন্তু ১২ দিন পর হঠাৎই লকডাউন তুলে দেয়া হয়, এমনকি সংক্রমণ বাড়তে থাকা সত্ত্বেও কোনো বিধিনিষেধ রাখা হয়নি।

হঠাৎ করে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ায় বাসিন্দারা কিভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানাবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে যান। কোনো কোনো বাসিন্দা শহরের বার, রেস্তোরাঁ ও সিনেমা হলগুলো পুনরায় খুলে যাওয়ার বিষয়টি উদযাপন করেছেন। অন্যরা বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। আবার কেউ কেউ সতর্কতামূলক জীবনযাপনের পাশাপাশি জ্বরের পরিচিত ওষুধগুলো সংরক্ষণ করে রাখেন।  

এক সপ্তাহ আগে গুরুত্বপূর্ণ এই শহরে করোনা বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার ঘোষণায় গোলমেলে অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে নগর কর্তৃপক্ষ নতুন দাবির মুখে পড়ে, তাদের দাবি বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন বিঘ্ন ঘটায়— এমনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না কর্তৃপক্ষ। কারণ ভাইরাসটি তাণ্ডব চালালে তার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে গত কয়েক মাসব্যাপী চালানো সতর্কতা মানুষের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল।  

হঠাৎ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ব্যাপারে শিজিয়াজুয়াং শহরের রাষ্ট্রায়ত্ত একটি কোম্পানির কর্মী ৩০ বছর বয়সী এক বাসিন্দা জানান, দেশের জিরো কোভিড নীতির বাইরে গিয়ে হঠাৎ তার নিজের রক্ষণশীল ও সতর্ক শহরের বিধিনিষেধ তুলে নেয়ায় তিনি খুবই বিস্মিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন : চীনে করোনাভাইরাস/গুয়াংজুতে লকডাউন, বেইজিংয়ে স্কুল বন্ধ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই বাসিন্দা বলেন, হঠাৎ করে এই সাহস দেখানো কেন? আমি এটা সমর্থন করি না, তবে এটা বুঝি যে আমরা গিনিপিগ।

স্থানীয় সময় গত শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) চীনে আগেরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের নতুন করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রকাশ করেছে। যেখানে বলা হয়েছে বৃহস্পতিবার দেশটিতে ২৫ হাজার ৩৫৩ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। এতে দেশটির সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ কোটি ৮১ লাখ ৭৯৩ জনে। যদিও অনেক দেশের দৈনিক সংক্রমণের তুলনায় এটি কম। তবে মহামারি চলাকালীন চীনের জন্য একদিনে এটি রেকর্ড সর্বোচ্চ। যদিও সাম্প্রতিক এ প্রাদুর্ভাবে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে সংক্রমণ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি থাকা মাসগুলোর ক্ষেত্রে এই বিপরীত দৃশ্য হতবাক করার মতোই।

আরও পড়ুন : তীব্র বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মুখে শি জিনপিংয়ের তৃতীয় মেয়াদ শুরু

সরকারের ঘোষণার পর থেকে ক্রমেই হতাশা বাড়ছে এবং এই হতাশা কখনো কখনো বিশৃঙ্খলায়ও পরিণত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গুয়াংজুর হাইজু জেলায় সোমবার (২১ নভেম্বর) লকডাউনের সময় বাড়ানোর পর বিক্ষোভ হয় এবং এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। যদিও গুয়াংজুর অন্যঅংশে বিধিনিষেধ শিথিল করা ছিল।    

এর আগে নভেম্বরের শুরুতে গুয়াংজু কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের পর অন্যশহর থেকে, শহরটিতে এসে কাজ করা শ্রমিকদের শহরটি ছাড়তে বাধ্য করেছিল। এমনকি কোয়ারেন্টিন সেন্টার থেকে ফিরে আসার পর অনেককে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া যেসব কর্মীদের কাছে স্থানীয়ভাবে বসবাসের অনুমতি ছিল না কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাদের প্রতি অবহেলা এবং বৈষম্যের অভিযোগও উঠেছে।
 

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!