বিনোদন

চুয়াডাঙ্গা আদালতে মামলা জট, স্থবির বিচার ব্যবস্থা

<![CDATA[

চুয়াডাঙ্গা ছোট্ট একটি জেলা। জনসংখ্যার তুলনায় মামলা অনেক বেশি। জেলা ও দায়রা জজ এবং চিফ জুডিসিয়াল আদালতের অধিস্থন সব আদালতে ২৭ হাজার ৬০২টি মামলা চলমান রয়েছে। বছরের পর বছর অতিক্রম হলেও শেষ হচ্ছে না মামলার কার্যক্রম। বলা যায়, মামলা জটে স্থবির বিচার ব্যবস্থা। আলোচিত মামলাগুলোও নানা কারণে শেষ হচ্ছে না। সব মিলিয়ে বিচারক, লোকবল, ভবন সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে আদালতগুলো। তবে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হলে এ সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছেন বিচার প্রত্যাশিরা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের প্রাণ কেন্দ্রে ১৮৯০ সালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। আধুনিকতার ছোয়া থেকে পিছিয়ে রয়েছে আদালতগুলো। বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত আদালতগুলো। জেলা ও দায়রা জজ এবং চিফ জুডিসিয়াল আদালতের অধিস্থন সকল আদালতে বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জরাজীর্ণ ও ছোট ভবনে চলছে বিচার ব্যবস্থা। চিফ জুডিসিয়াল আদালত ভবন আলাদা করা সম্ভব হলে বিচারিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে। বাদী, বিবাদি ও আসামিরা মামলার দীর্ঘসূত্রিতা থেকে মুক্তি চান। অনেকে মামলা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। মামলা বছরের পর বছর চলমান থাকায় অনেকে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় নতুন একটি থানার কর্যক্রম শুরু হলেও দেওয়ানী আদালত ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কাজ সম্পর্ণ রুপে চালু করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ দুটি আদালতের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে অন্য কোর্টে। এখানে বিচার প্রত্যাশিদের নিয়মিত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অধিস্থন সকল আদালতে ৯১টি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৮টি। সহকারী জজের দুটি পদ শূন্য রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর ও জীবননগর দেওয়ানী আদালতের সহকারী জজের পদ দীর্ঘ শূন্য রয়েছে। যার ফলে মামলাগুলোর ধার্য তারিখে শুধু নতুন করে পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করা হয়। নিম্নমান সহকারী ৫টি ও জারিকারকের একটি পদ শূন্য রয়েছে। জেলা ও দায়রা জজ এবং দেওয়ানী আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে ২০ হাজার ১১৫টি। জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে ৬ হাজার ৬৪৪টি। দেওয়ানী আদালতে বিচারাধীন রয়েছে ১৩ হাজার ৪৭১টি মামলা। চারটি দেওয়ানী আদালতে সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৪৭১টি মামলা চলমান।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে গোলপাতা আহরণের প্রস্তুতি

চিফ জুডিসিয়াল আদালতের অধিস্থন সকল আদালতে ৬৭টি পদের বিপরীতে ১১টি পদ শূন্য রয়েছে। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২টি ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১টি পদ শূন্য রয়েছে। পিয়ন ৪টি, দফতরি ১টি, ষ্টোনো ১টি ও নাইট গার্ড ২টি পদ শূন্য রয়েছে। মামলা বিচারাধীন রয়েছে ৭৬৩৩টি।

গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো দীর্ঘমেয়াদী তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকায় আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করে। আর বিচার প্রক্রিয়ায় ধীর গতি দেখা যায়। এ সকল মামলাগুলো তদন্ত করে পিবিআই, সিআইডি, র‌্যাব, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ। হত্যা, স্বর্ণ চোরাচালান, নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস বিরোধসহ স্পর্শকাতর মামলাগুলো দীর্ঘ সময় তদন্ত চলতে থাকে।

বিচার প্রত্যাশিরা জানান, বছরে একটি মামলার সর্বোচ্চ চার বার দিন পড়ায় নিষ্পত্তিতে বিলম্বিত হচ্ছে। অনেক সময় বিচারক থাকেন না তাই ঘুরে চলে যেতে হয়। দেওয়ানী মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ২০- ৩০ বছরের অধিক সময় অপেক্ষা করতে হয়। আদালতে মামলা চালাতে গিয়ে অসহায় হয়ে যেতে হয়। মামলা জট না কমা পর্যন্ত বিচার কাজে গতি ফিরবে না। তবে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হলে এ সংকট কেটে যাবে।

চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের আইনজীবী আহসান আলী বলেন, বিচার ব্যবস্থায় এক রকম সংকট তৈরি হয়েছে নানা সমস্য বিদ্যামান থাকায়। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হলে সবাই উপকৃত হবে।

চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের আইনজীবী হাফিজুর রহমান জানান, ব্রিটিশ আইনের কারণে মামলাগুলো দীর্ঘ সময় চলমান থাকে। সরকার আদালতগুলো আধুনিকায়ন করার চেষ্টা করছে। বিচারক ও আইনজীবীদের জন্য মামালাগুলো বেশি জট থাকছে। সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।

চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মালেক বলেন, মামলা জট কমাতে হলে সকলকে সচেতন হতে হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাটিও দীর্ঘ সময় লেগেছে বিচার শেষ হতে।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২ বিচারকের বদলির দাবিতে আদালত বর্জনের সময় বৃদ্ধি

চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. সেলিম উদ্দিন খান জানান, মানুষকে বিচার দিতে হলে কোর্ট তৈরি করতে হবে। এখানে বিচারক ও আইনজীবীদের বসার জায়গা নেই। দেওয়ানী আদালত ও বিচারক সংখ্যা দ্রুত বাড়াতে হবে। চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। আইনজীবীদের বাসার জন্য নতুন ভবন প্রয়োজন। বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলুক এটা প্রত্যাশা আমাদের।

চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশিদ বলেন, বিচারক, ভবন ও লোকবল সংকটের বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। সমস্যার মধ্যে দিয়ে কাজ চালিয়ে নিতে আমরা আন্তরিক। দ্রুত সময়ে সকল সমস্য সমাধান হবে বলে আশা করছি। মামলা জট কেটে যাবে। বিচার প্রত্যাশিরা দ্রুত সময়ে মামলার রায় পাবে।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!