বাংলাদেশ

চৌদ্দ বছরে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের গল্প

<![CDATA[

রাত পোহালেই ৭ জানুয়ারি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ক্ষমতার ১৪ বছর। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার বর্তমান মেয়াদে পদার্পণ করবে পঞ্চম বছরে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা উপমহাদেশের এই প্রবীণ দলটি বদলে দিয়েছে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

একটি উন্নয়নশীল দেশের বড় দুর্বলতাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এ সমস্যাটি বুঝতে পেরেছিলেন এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বড় বড় প্রকল্পের প্রশংসা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সময় সংবাদকে বলেন, বর্তমান সরকার যেসব মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে, যেমন: পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল ও রূপপুর, এগুলো সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফসল। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অবহেলা করে কখনোই উন্নতির চিন্তা করা যায় না।

নানা সমালোচনা ও বাধা ডিঙিয়ে বর্তমান সরকার যোগাযোগখাতে যেসব উন্নয়ন করেছেন তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ দেশের প্রায় প্রতিটি মহল। বিশেষ করে পদ্মা সেতু ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক। বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ার পর সিংহভাগ মানুষই মনে করেছিলেন পদ্মা সেতু করা অসম্ভব। কিন্তু প্রমত্তা পদ্মার ওপরে সেতু তৈরি করে সরকার দেখিয়ে দিয়েছে- চাইলে বাঙালি কিনা পারে! এ যেন সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়’ দুর্মর কবিতারই দৃশ্যমান স্থাপত্যশৈলি।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ সরকার: চার বছরের সফলতার গল্প

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক সময় সংবাদকে বলেন, ‘যারা সমালোচনা করছে তারা দেখাক পদ্মা সেতু কিংবা মেট্রোরেলের কোনো বিকল্প আছে কি না। আগে খুলনা যেতে সময় লাগত ৯-১০ ঘণ্টা, এখন লাগে ৩ ঘণ্টা। আবার মেট্রোরেলে যানজট কতটা কমে আসবে তা সহজেই অনুমেয়। যেসব কাজ ভালো তা অবশ্যই প্রশংসা করতে হবে। পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।’

সাহসের প্রতীক পদ্মা সেতু

স্বপ্নের পদ্মা সেতু বর্তমান সরকারের যোগাযোগ খাতের সবচেয়ে বড় অর্জন। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরই পদ্মা সেতু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরপর ২০০১ সালে এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন তিনি। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর পদ্মা সেতুর চূড়ান্ত নকশার অনুমোদন দেয়া হয়। ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে পদ্মা সেতু যার পুরোটাই দেশের টাকায়। পদ্মাসেতু দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলাকে ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত করেছে, যা দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ডকে করেছে আরও মজবুত। চল্লিশ তলাসম পাইলিং ও দশ হাজার টনেরও বেশি ধারণক্ষমতার বেয়ারিংয়ের এই সেতু তাক লাগিয়ে দিয়েছে বিশ্বকে। আর সেতুর দুপাশে তৈরি হাইওয়ে বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থায় এনেছে আধুনিকতার ছোঁয়া।

ঢাকার মেট্রোযাত্রা

দুই কোটি মানুষের আবাস ঢাকা শহরে মেট্রোরেল স্বপ্নের বাহন হয়ে এসেছে। যেখানে বর্তমান জিডিপির ৩৭ শতাংশই আসে রাজধানী থেকে, সেই রাজধানীতেই প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে শুধু যানজটের কারণে। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) দেয়া তথ্যানুসারে, কর্মঘণ্টা কাজে লাগিয়ে ও যানবাহন পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে প্রতিবছর মেট্রোরেল থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয় হবে। উত্তরা-কমলাপুর সড়কে মেট্রোরেলের মোট দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ৬ কিলোমিটার। এর খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। মেট্রোরেলকে কেন্দ্র করে প্রতিটি স্টেশন ও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠবে স্টেশন প্লাজা। এ ছাড়া সংযুক্ত হবে ট্রানজিট-ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্টের (টিওডি) মতো নানামুখী বাণিজ্যিক সুবিধা। স্টেশনে টিওডির মতো মিনি বিজনেস হাব সংযুক্ত হলে সেখানে নির্মিত হবে উন্নতমানের হোটেল, শপিংমল ও বাজার যা ঢাকাকে দেবে আধুনিকতার অনন্য ছোঁয়া।

বঙ্গবন্ধু টানেল

যেকোনো দিন উদ্বোধন হবে নদীর তলদেশে তৈরি টানেল। কর্ণফুলী নদীর নিচে তৈরি এ টানেল কেবল বাংলাদেশে নয় দক্ষিণ এশিয়াও প্রথম। এই টানেল চালু হওয়ার পর কক্সবাজারের সঙ্গে সড়কপথে দূরত্ব কমে যাবে প্রায় ৫০ কিলোমিটার। ৯ দশমিক ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলটি নির্মাণে খরচ হচ্ছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা, যা শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়; ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া কর্ণফুলী টানেল বদলে দেবে চট্টগ্রামের সড়ক ব্যবস্থা। চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা নেভাল একাডেমি পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে কর্ণফুলী নদীর অপর পাড়ে আনোয়ারা উপজেলার কাফকো ও সিইউএফএল পয়েন্টের মাঝখানের সড়কের সঙ্গে যুক্ত হওয়া টানেলটি চালু হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা গাড়িগুলো চট্টগ্রাম নগরীতে প্রবেশ না করেই পতেঙ্গার আউটার রিং রোড হয়ে দ্রুত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।

একদিনে একশ সেতু ও সড়ক উদ্বোধন

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বুকেও এ যেন এক বিরাট বিস্ময়। একদিনে আর আগে কোথাও একশ সেতু ও সড়কের উদ্বোধন হয়েছে কি না বলা দুষ্কর। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরীর দেয়া তথ্যানুসারে, সারা দেশে ২২ হাজার ৪৭৬ কিলোমিটার সড়ক নেটওয়ার্ক রয়েছে। তার মধ্যে ৩ হাজার ৯৯১ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ৪ হাজার ৮৯৭ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ১৩ হাজার ৫৮৮ কিলোমিটার জেলা সড়ক রয়েছে। একদিনে একশ রাস্তা উদ্বোধনের সরাসরি সুবিধাভোগ করতে পারবে ৫১টি জেলা। এ ছাড়া নতুন সেতুগুলো দুর্গম অঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রামে যাতায়তকে করবে সুগম। রাজধানী থেকে দেশের প্রত্যন্ত জায়গায় চলাচলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এসব সেতু ও সড়কের মাধ্যমে।

রাত পোহালেই আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকালের চৌদ্দ বছর পূর্তি। একসময় উন্নইয়নশীল বাংলাদেশের উন্নয়নকে বলা হতো আই-ওয়াশ। কিন্তু বর্তমান সরকারের দৃশ্যমান উন্নয়ন প্রমাণ করেছে একটি সাহসী ও দূরদর্শী সরকারই পারে তলানি থেকে একটি দেশকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরতে। নানা কিছিমের সমালোচনাকে সামাল দিয়ে উন্নয়নের মহাসড়ক গড়ে তুলছে আওয়ামী লীগ সরকার, যা বাংলাদেশকে পৌঁছে দেবে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!