ছাগলনাইয়া সরকারি শিশু পরিবারে বড় ভাইদের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এতিম শিশুরা
ছাগলনাইয়া প্রতিনিধি->>
ছাগলনাইয়া সরকারি শিশু পরিবারের দায়িত্বে থাকা বড় ভাইদের (শিক্ষক) নানা অনিয়ম ও নির্যাতনের শিকার হয়ে এতিম শিশুরা চরম কষ্টে দিন পার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার একমাত্র সরকারি শিশু পরিবারে এক সময়ে নির্ধারিত ১৭৫ আসনের সবকয়টি পরিপূর্ণ থাকলেও বর্তমানে এখানে শিশু রয়েছে মাত্র ৪৭ জন। সরকারি শিশু পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু এতিমখানা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে সরকারি শিশু পরিবারের ভর্তি সংখ্যা কিছুটা কমলেও এখানকার বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার দরুন সরকারি শিশু পরিবারে ভর্তি থেকে অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
দায়িত্বপ্রাপ্তদের যথাযথ নজরদারি না থাকায় ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ছাগলনাইয়া সরকারি শিশু পরিবারটি বর্তমানে শিশু সংকটে অনেকটা বন্ধ হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না পাওয়া, মানসম্মত খাবারের সংকট, চিকিৎসা সেবায় ত্রুটি, খেলাধুলার অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বপ্রাপ্ত বড় ভাইদের (শিক্ষক) অবহেলাসহ বিভিন্ন অভাব-অনিয়মের প্রতিকার চায় ছাগলনাইয়া সরকারি শিশু পরিবারের কোমলমতি শিশুরা।
শিশুদের অভিযোগ, এখানে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও হঠাৎ সব কিছুতে অনিয়মের দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি ভালো নেই ছাগলনাইয়া সরকারি শিশু পরিবারের শিশুরা। শিশুদের সকল অভিযোগ দায়িত্বপ্রাপ্ত বড় ভাইদের উপরই। অধিকাংশ শিশুর অভিযোগ বড় ভাই তাজুল ইসলাম ও আবদুল মোতালেব, রাহাত আলী ও মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে।
শিশু পরিবারের শিক্ষার্থী আবু বক্কর ছিদ্দিক আরমানের অভিযোগ, বড় ভাই মো. তাজুল ইসলাম কারণে-অকারণে শিশুদের প্রহার করে এবং আমারদের জন্য বরাদ্দকৃত জিনিসপত্র নিজেই রেখে দেন।
এছাড়াও স্টোররুমের জিনিসপত্র নিজে সরিয়ে শিশুদের ওপর দোষ চাপিয়ে দেন তিনি। একই সঙ্গে তাজুল ইসলাম এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অন্যজনের গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করে আরমান। রেদোয়ান ইসলামের অভিযোগ, শাকিল ও মারুফসহ কয়েকজন শিশুকে বড় ভাইরা বেদম প্রহার করেছেন। বড় ভাইদের অতি শাসনের ফলে কয়েকজন শিশু এ শিশু পরিবার থেকে বিদায় নিয়ে চেলে গেছে বলেও অভিযোগ করে রেদোয়ান।
ছোট্ট শিশু মারুফের অভিযোগ, বড় ভাই মাসুদ স্যার আমাকে অকারণে মারধর করেছেন এবং বিষয়টি কাউকে না বলতে আমাকে কিছু টাকাও দিয়েছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঠিক সময়ে সরবরাহ করলেও শিশুরা তা প্রয়োজনে পাচ্ছে না উল্লেখ করে সাইফুল ইসলাম গিয়াস অভিযোগ করে, শিশু পরিবারের দায়িত্বে থাকা বড় ভাইরা সঠিক তদারকি না করার ফলে আমরা দৈনন্দিন খাবার ও চিকিৎসা সেবায় প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছি না।
অনেক শিশুর অভিযোগ, ঠিকাদার সবকিছু ঠিকঠাক সরবরাহ করলেও দায়িত্বে থাকা বড় ভাইয়েরা সরিয়ে নিয়ে যান। ফলে শিশুরা সংকটে দিন পার করছে বলে অভিযোগ ওঠে।
আশ্রাফুল ইসলামের অভিযোগ, আমরা অনেক কিছু পাচ্ছি না তবে যখন বড় স্যার (উপ-পরিচালক) শিশু পরিবার পরিদর্শনে আসেন তখন দায়িত্বপ্রাপ্তরা সবকিছু ঠিকঠাক রাখে। বড় স্যার চলেগেলে শিশু পরিবারের চিত্র আগের অবস্থায় ফিরে আসে। বেশ কিছুদিন রুমের সিলিং ফ্যান অকেজো হয়ে পড়ে থাকলেও মেরামতের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করে শিশুরা।
শাহাদাত হোসেনের অভিযোগ, বড় ভাই আবদুল মোতালেব, আনোয়ার হোসেন, মারুফ ও রাহাত আলী শিশুদেরকে তাদের শরীর মেসেজ করতে বাধ্য করেন। সোলেমান হোসেনের অভিযোগ, বড় ভাইদের জামাকাপড় পরিষ্কার করতে আমাদের বাধ্য করা হয়। অন্যদিকে, পড়ালেখার বাহিরে শিশুদের মানসিক বিকাশের অবিচ্ছেদ্য অংশ খেলাধুলার আয়োজন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করেছে শিশুরা।
তাদের অভিযোগ, সরকার শিশু পরিবারের জন্য প্রতিবছর খেলাধুলার আয়োজন করার বিষয়ে বরাদ্দ প্রদান করলেও এ বছর আমরা খেলাধুলার আয়োজন থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এসব অভাব ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায় ছাগলনাইয়া সরকারি শিশু পরিবারের এতিম শিশুরা।
শিশুদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছাগলনাইয়া সরকারি শিশু পরিবারের বড় ভাইরা জানান, শিশুরা যেসব অভিযোগ করেছে তা সঠিক নয়।
এ বিষয়ে ছাগলনাইয়া সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কাজী সামি উল হক জানান, শিশুরা আমাকে তাদের অভিযোগের কথা জানিয়েছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




