জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে রাজনীতি ছাড়বেন শাহবাজ
<![CDATA[
ইমরান খানের ওপর হত্যাচেষ্টার হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি চিরতরে রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) সরকারবিরোধী লংমার্চে পিটিআই নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের পায়ে গুলি লাগে। এই ঘটনায় ইমরান খান দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন শীর্ষ জেনারেলকে দায়ী করেছেন।
এ বিষয়ে শনিবার (৫ নভেম্বর) পাকিস্তানের লাহোরে সাংবাদিকদের শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘এই ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে আমার পদে থাকার অধিকার নেই। আমার বিরুদ্ধে বলা হলেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। যদি কোন প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আমি চিরতরে রাজনীতি ছেড়ে দেব।’
তিনি আরও বলেন, ইমরান ‘মিথ্যা ও সস্তা ষড়যন্ত্র’ করে দেশের ক্ষতি করছেন। এ সময় শাহবাজ পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টকে এই ঘটনায় যে অভিযোগ উঠেছে তদন্তের জন্যে পূর্ণ আদালত গঠনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমি পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি উমর আতা বন্দিয়ালকে একটি পূর্ণ আদালত গঠনের অনুরোধ করছি। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরে এই বিষয়ে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।
পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর ৭৫ বছরের ইতিহাসে অর্ধেকের বেশি সময় দেশটির শাসন ক্ষমতায় থাকা সেনাবাহিনী শুক্রবার (৪ নভেম্বর) ইমরানের বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে।
আরও পড়ুন: হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা আগেই জানতে পেরেছিলাম: ইমরান খান
এদিকে শনিবার পাকিস্তান সরকার এক আদেশ জারি করে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটিকে (পিইএমআরএ) টিভি চ্যানেলে ইমরানের লাইভ বক্তৃতা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বলেছে। দেশটির তথ্যমন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব বলেছেন, সরকার বাক স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতিতে বিশ্বাস করে। সেই সঙ্গে ইমরানের বক্তৃতা জনগণের কাছে পৌঁছানোর পথে বাধা দেবে না তারা।
এ বছরের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারণের পর থেকে ইমরানের দাবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর সহায়তায় সেই সময়ের বিরোধী দলের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল। ইমরানের দাবি অস্বীকার করেছে দেশটির বর্তমান সরকার এবং সেনাবাহিনী। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও তার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের পর আগাম নির্বাচনের দাবিতে এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে কয়েক ডজন সমাবেশ করেছেন ইমরান খান। বৃহস্পতিবার পূর্ব পাঞ্জাবের ওয়াজিরাবাদ জেলায় হামলাকারীর গুলিতে আহত হওয়ার সময় তিনি ইসলামাদের উদ্দেশে লংমার্চের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
]]>




