জামালপুরে হাসপাতালে বাড়ছে রোগী, হিমশিম চিকিৎসক
<![CDATA[
জামালপুরের হাসপাতালে হঠাৎ করে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই জ্বর, ঠান্ডা, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে নতুন রোগী। এতে অতিরিক্ত রোগীদের বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকসহ নার্সদের।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে রোগীদের প্রচণ্ড ভিড়। মেডিসিন বিভাগে ২৪টি আসনের বিপরীতে ১২০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এক আসনে দুইজন রোগীও সেবা নিচ্ছেন। জায়গা না পেয়ে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেক রোগীকে।
মেলান্দহ উপজেলার চরপলিশা এলাকার মেডিসিন ওয়ার্ডের মমতাজ বেগম মেয়ে রোজিনাকে নিয়ে এসেছেন জ্বর ঠাণ্ডা নিয়ে। মমতাজ বলেন, রোগীর চাপে আরও অসুস্থ হয়ে গেছি। বিদ্যুৎ থাকে না আর মানুষের চাপে জীবন শেষ। সদর উপজেলার চরযথার্থপুর শাহানা বেগম পিত্তথলিতে পাথর নিয়ে ভর্তি আছে মেডিসিন ওয়ার্ডে। তার স্বামী রিপন মিয়া বলেন, হাসপাতালে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নেই। বাথরুমের অবস্থাও খারাপ। রোগীর চাপে ঠিক মতো চিকিৎসাও নেয়া যাচ্ছে না।
হাসপাতালটির সিনিয়র নার্স আছিয়া খাতুন বলেন, আসন সংখ্যার চেয়ে তিনগুণ বেশি রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। এমন অবস্থা ঠিক মতো সেবাও দিতে পারছি না। সকালে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী নতুন করে ভর্তি হয়। আবার বিকেল হলেই বাড়তি রোগী আসে। এত রোগী সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে রোগীরা সেবা নিতে আসবেই। কিন্তু আসন সংখ্যা বৃদ্ধি না করলে সেবা দেয়া সমস্যা।
আরও পড়ুন: একদিনে ঢাকার হাসপাতালে ৩০২ রোগী
গত ২৪ ঘণ্টায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ২৩ জন। এছাড়া জ্বর ঠান্ডা নিয়ে ২৯ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিন গুণ বেশি রোগী ভর্তি আছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় অর্ধেকই শিশু। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু ও নারী।
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মঞ্জুরুল হক মিয়া জানিয়েছেন, হঠাৎ করেই গরম বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিন গুণ বেশি রোগী ভর্তি আছে। শয্যা সংখ্যা ও জনবল বৃদ্ধি করা না হলে মান সম্মত সেবা দেয়া সম্ভব হবে না।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, গরমের কারণে হাসপাতালে তিন গুণ বেশি রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার পাশাপাশি তাদের সচেতন করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রোগীর চাপ বেশি আসন সংখ্যার চেয়ে তিনগুণ। এর মধ্যে জনবল সংকট তো আছেই। এ ছাড়া হাসপাতালটিকে মেডিকেল কলেজের আওতায় নেয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতাল বৃদ্ধির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
]]>




