জামিনে মুক্ত ঝুমন দাস
<![CDATA[
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় কারাগারে থাকা সুনামগঞ্জের ঝুমন দাস ওরফে আপনকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। ভবিষ্যতে ফেসবুকে কোনো ধরনের উসকানিমূলক ও ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ পোস্ট দেবেন না–এই মুচলেকা দিয়ে জামিন পেলেন তিনি।
রোববার বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে ছয় মাসের জামিন দেন।
এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর ঝুমন দাসের আইনজীবী আদালতে জামিন আবেদন করেছিলেন। ওই সময় আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন।
ঝুমন দাসের আইনজীবী পঙ্কজ তালুকদার ওই দিন বলেন, গত ৩০ আগস্ট ঝুমন দাস গ্রেফতার হওয়ার পর ৪ সেপ্টেম্বর তারা নিম্ন আদালতে জামিন চেয়েছিলেন। কিন্তু জামিন হয়নি। সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আবার জামিনের আবেদন করা হয়। বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
আরও পড়ুন: খুলনার আদালতে মামলাজট, বছরের পর বছর অপেক্ষা
আইনজীবী পঙ্কজ তালুকদার বলেন, ঝুমন দাসের পরিবার উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ঝুমন দাসের বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে। শাল্লা থানার পুলিশ তাকে গত ৩০ আগস্ট দুপুরে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তার বিরুদ্ধে শাল্লা থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুমনুর রহমান বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। ঝুমন দাস সেদিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ঝুমন দাসের বিরুদ্ধে একই থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত বছরের ২২ মার্চ আরেকটি মামলা করেছিল পুলিশ। ওই মামলায় তিনি প্রায় ছয় মাস কারাগারে ছিলেন। মামলাটি এখন সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে রয়েছে।
হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে দেয়া ঝুমন দাসের একটি পোস্টের জেরে গত বছরের ১৭ মার্চ সকালে নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা হয়। হামলার ঘটনার আগে ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা শহরে এক সমাবেশে হেফাজত নেতা মামুনুল হক বক্তব্য দেন। পরে মামুনুল হককে নিয়ে নিজের ফেসবুকে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট দেন বলে অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ১৬ মার্চ রাতে পুলিশ তাকে আটক করে।
এ ঘটনায় শাল্লা থানায় মামলা হয় তিনটি। এর মধ্যে দুটি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায়। অন্যটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। এ মামলায় তিনি প্রায় ছয় মাস জেল খাটার পর হাইকোর্ট থেকে এক বছরের জন্য ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জামিন পান।
]]>




