জিনপিংকে অভিনন্দন মিয়ানমার জান্তাবিরোধী জোটের
<![CDATA[
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অভিনন্দন জানিয়েছে মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী গণতন্ত্রপন্থি জোট দ্য ন্যাশনাল ইউনিটি কনসালটেটিভ কাউন্সিল (এনইউসিসি)। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেস উপলক্ষে সোমবার (১৭ অক্টোবর) এনইউসিসির পক্ষ থেকে চীনা প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানানো হয়। বলা হয়, মিয়ানমারে চলমান সংকট মোকাবিলা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীনের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে চায় এনইউসিসি।
বেইজিংয়ে চলমান চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) কংগ্রেস উপলক্ষে এক অভিনন্দন বার্তায় এনইউসিসি আরও বলেছে, মিয়ানমারও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সব জাতি ও গোষ্ঠীর মানুষের জন্য একটা অভিন্ন শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য তারা শি জিনপিং সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থি অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করা হয়। কিন্তু দেশটির জনগোষ্ঠীর একটা বিশাল অংশ আর আগের মতো সামরিক শাসনে ফিরে যেতে চায়নি। ফলে তারা সারা দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু করে। প্রধানত তরুণ গণতন্ত্রপন্থি কর্মীরা এতে অংশ নেয়। পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় ক্ষমতাচ্যুত ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।
স্থানীয় বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী, নাগরিক সমাজ, ক্ষমতাচ্যুত জনপ্রতিনিধি ও জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সরকার গঠন করা হয়। যার নাম ন্যাশনাল ইউনিটি গর্ভমেন্ট (এনইউজি)।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছে না বাসিন্দারা, ক্ষতির মুখে জান্তা
এছাড়া সরকারবিরোধী আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এনএলডি, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি আর সরকারবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও জাতিগত গোষ্ঠীগুলো মিলে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিতে আরও একটা জোট গঠন করা হয়। সেই জোটই ন্যাশনাল ইউনিটি কনসালটেটিভ কাউন্সিল (এনইউসিসি)। এর উদ্দেশ্য মিয়ানমারকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করা।
রোববার (১৬ অক্টোবর) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারের গ্রেট হলে শুরু হয় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সপ্তাহব্যাপী কংগ্রেস বা সম্মেলন। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও চীনা জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি বিশেষ বার্তা পাঠায় এনইউসিসি।
তাতে চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়, ‘মিয়ানমারের জনগণের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির পথের খুঁজে পেতে এ সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সেনাবাহিনী তাদের ব্যারাকে ফিরে গেলে এবং একটা সত্যিকার গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই কেবল সেটা উপলব্ধি করা যাবে।’
চীন মিয়ানমারের অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী। একই সঙ্গে বর্তমানে দেশটিতে জ্বালানি পাইপলাইন ও প্রস্তাবিত সমুদ্রবন্দরসহ কৌশলগত বেশ কয়েকটি অবকাঠামো প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ করছে চীন। এছাড়া মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সক্রিয় কিছু জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপরও বেইজিংয়ের প্রভাব রয়েছে।
আরও পড়ুন: যেভাবে মিয়ানমারের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে সামরিক জান্তা
বর্তমানে বিশ্বের হাতে গোনা যে কয়টি দেশ মিয়ানমারের সেনা সরকারকে সব ধরনের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে তার মধ্যে চীন অন্যতম। এ কারণে মিয়ানমারের জনগণের মধ্যে চীনবিরোধী মনোভাব রয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে বেইজিংবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। এমনকি চীনা কল-কারখানাতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
সামরিক সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সত্ত্বেও চীন বলছে, তারা মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা দেখতে চায়। এ কথার সূত্র ধরেই মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী ছায়া সরকার এনইউজি সম্পর্ক এগিতে নিতে বেইজিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
তারা আরও বলেছে, চীন যদি জান্তা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়, তাহলে বেইজিংয়ের প্রতি মিয়ানমার জনগণের ক্ষোভ ও শত্রুতা আরও বাড়বে। তবে এনইউজির সঙ্গে এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি চীন।
]]>




