জেরুজালেমে ব্রিটিশ দূতাবাস সরানোর প্রস্তাবে ফিলিস্তিনের ক্ষোভ
<![CDATA[
ইসরাইলের তেল আবিব থেকে ব্রিটিশ দূতাবাস জেরুজালেমে সরানোর প্রস্তাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিন। যুক্তরাজ্যের এ প্রস্তাবকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ ও ‘আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী লাপিদের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস। বৈঠকে লাপিদকে তিনি ব্রিটিশ দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নেয়ার প্রস্তাব দেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এ প্রস্তাবের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান লাপিদ। এরপর এক টুইটার বার্তায় লিজ ট্রাসকে ‘একজন ভালো বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অফিস ডাউনিং স্ট্রিট থেকে যদিও দূতাবাস সরানোর সময়সীমা এখনও জানানো হয়নি।
তবে যুক্তরাজ্যের এমন পদক্ষেপ কঠোর সমালোচনার মুখে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে ২০১৮ সালে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার পদক্ষেপ আরব বিশ্বের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে। এ সম্পর্কিত খবর প্রকাশ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: ইরানের নৈতিকতা পুলিশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র
দূতাবাস সরানোর প্রস্তাবকে ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক’ অভিহিত করে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত হুসাম জমলত এক টুইটার বার্তায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে উপস্থিত হয়েই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করলেন লিজ ট্রাস।’
এই প্রস্তাবকে ‘অনৈতিক, অবৈধ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান হুমকির মুখে পড়বে।
১৯৬৭ সালে আরবদের সঙ্গে যুদ্ধে জিতে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় এবং পুরো জেরুজালেম শহর ইসরাইলি রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১৭ সালে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের ব্যাপক বিতর্কিত ঘোষণাটি দেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আরও পড়ুন: সিরিয়ায় অভিবাসী নৌকা ডুবে ৬১ জনের মৃত্যু
এর এক বছর পর তা বাস্তবায়ন হয়। এ নিয়ে ফিলিস্তিনের পাশাপাশি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে টানা কয়েক দিন বিক্ষোভ করেন ফিলিস্তিনিরা। বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এতে নিহত হন অর্ধশত ফিলিস্তিনি।
এদিকে কয়েক দশক ধরে চলা ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত অবসানে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে জাতিসংঘে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
]]>




