টুকরিতে করে বিদ্যুৎ ফেরির দিন শেষ- সংসদে রুমিন
<![CDATA[
বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের গলাবাজি দেখার মতো। টুকরিতে করে বিদ্যুৎ ফেরি করার দিন শেষ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা যতই থাক না কেন, ঘরে ঘরে চলছে লোডশেডিং। বিদ্যুৎ খাতে দায়মুক্তি দিয়ে রেন্টাল–কুইক রেন্টাল করে বিপুল লুটপাট করা হয়েছে। কিছু ব্যক্তির হাতে অবিশ্বাস্য পরিমাণ টাকা তুলে দিতে সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রেখে রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানো হচ্ছে।
বুধবার (২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদের বৈঠকে ‘বাংলাদেশ গ্যাস, তেল ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন বিল ২০২২’ পাসের পর সেই বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন।
এ সময় বিচার নিশ্চিতের কথা জানিয়ে রুমিন বলেন, ‘একদিন এসব লুটপাটের তদন্ত হবে। যারা লুটপাটে জড়িত হবে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’
এদিকে সংসদে এই বিল পাসের প্রস্তাব তুলে বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতকে আওয়ামী লীগ বিলিয়নিয়ার তৈরির কারখানা করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: রুমিন ফারহানার প্রশ্নের উত্তরে কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
বিদ্যুতের দায়মুক্তি আইন এবং একাধিকবার আইনের মেয়াদ বাড়ানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কেন বিদ্যুতের দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে? বড় বড় ট্রান্সমিশন লাইন, এই সব কারখানা কাদের জন্য দেয়া হয়েছে? এসব রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল কাকে দেয়া হয়েছে?’
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আগামী ৩-৪ বছরে ভারত থেকে ৪-৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে যোগ হবে। এগুলো সব বসে থাকেবে। কেন ভারত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে ট্রান্সমিশন লাইন তৈরি করে বিদ্যুৎ আনা হচ্ছে?’
এসব সমালোচনার জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘বিশ্বে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের ১১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কারখানা গ্যাসে চলে। এতে বিদ্যুৎ কারখানায় গ্যাস দেয়া বন্ধ করা হয়েছে। এর ফলে লোডশেডিং করা হয়েছে। সরকার এই মাসেই লোডশেডিং থেকে বের হয়ে এসেছে। চাহিদা ধীরে ধীরে কমে আসছে।’
আগামী বছর খুব ভালোর দিকে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন নসরুল হামিদ। বলেন, ‘দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে লোডশেডিংয়ে যেতে হয়েছে। জ্বালানি আমদানির বেশ কিছু অংশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তেল আমদানি করা হচ্ছে উচ্চমূল্য। তেলের মূল্য সমন্বয় করার পরেও বিপিসির বাৎসরিক ক্ষতি প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।’
বিএনপির আমলে ১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং হতো দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেটাকে মানুষ স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নিয়েছিল।’
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির কারণ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাতারবাড়ি, পায়রা থেকে রংপুর বিদ্যুৎ নিতে সিস্টেম লস ও ট্রান্সমিশন ক্ষতি ৪ শতাংশ। সেটা লাভবান হবে না। কম দূরত্বে বিদ্যুৎ আনলে খরচ কম পড়বে। ভারত থেকে ট্রান্সমিশন খরচ কম পড়বে।’
]]>




