বিনোদন

ডেঙ্গু সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে শিশুদের, চিন্তিত অভিভাবকরা

<![CDATA[

ডেঙ্গু সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে শিশুদের। চলতি মৌসুমে এই রোগে শিশু মৃত্যুর হার ৩৫ শতাংশ। রাজধানীর স্কুলের চারপাশে এডিসের উর্বর প্রজনন ক্ষেত্রের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্কুলের ক্লাসরুমে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা। এতে চিন্তায় অভিভাবকরা। এজন্য তারা সিটি করপোরেশনকে দায়ী করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ উল্লেখ করে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরেজমিনে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর শিশু শিক্ষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেল শিশুদের দুরন্তপনা। বেশিরভাগ শহুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেখানে খেলার মাঠের অভাব, সেখানে এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা অনেকটাই সৌভাগ্যের অধিকারী।

তবে সামনে থেকে পরিপাটি ও সুন্দর মনে হলেও স্কুলের চারপাশে নজর দিলে নিজের চোখকেও বিশ্বাস করা কঠিন। যেখানে সেখানে পড়ে আছে ডাবের খোসা-প্লাস্টিকের পাত্র। যার সবগুলোই পানিতে পরিপূর্ণ অর্থাৎ এডিসের উর্বর প্রজননক্ষেত্র বললে হয়তো ভুল হবে না। যা নিয়ে উদ্বেগের শেষ নেই অভিভাবকদের। শিক্ষার্থীদেরও অভিযোগ ক্লাসরুমে মশার কামড়ে অতিষ্ট হওয়ার।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘অবশ্যই এটা ভয়ের ব্যাপার। কারণ, আমাদের বাচ্চারাই কিন্তু এই স্কুলে পড়াশোনা করে, তাই তারা আক্রান্ত হতে পারে। স্কুলের ড্রেনের খুবই বাজে অবস্থা। আমরা যখন বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাই; তখন তারা আমাদের চোখের বাইরে থাকে, তাই আমরা এটা নিয়ে আতঙ্কে থাকি।’

এক শিক্ষার্থী বলল, ‘স্কুলের পেছনে একটা জঙ্গল আছে তো ওইখানে স্প্রে করা হয় না, তাই ওখান থেকে মশা আসে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে বললে তারা স্প্রে করে দেয়, তারপর কিছুক্ষণ পর্যন্ত মশা থাকে না। তারপরে আবার মশা অনেক কামড়ায়।’

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২, হাসপাতালে ভর্তি ৮৫৭ জন

স্কুলের আশপাশের পরিবেশের জন্য এলাকাবাসীও দায়ী উল্লেখ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ দুষছে সিটি করপোরেশনের সঠিক গুরুত্বের অভাবকে।

শেরে বাংলা নগর শিশু শিক্ষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা জিন্নাতুন নূর বলেন, ‘ডেঙ্গু মৌসুম উপলক্ষে সিটি করপোরেশনের ডেঙ্গু নিধন কর্মসূচির লোকজনদের যেভাবে স্কুলে আসা উচিত ছিল আমরা আসলে সেভাবে তাদের পাইনি।’

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষের মধ্যে ৩৫ শতাংশই শিশু। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের চিত্রও সেইদিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। চলতি বছর হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু নিয়ে মৃত্যুবরণকরা ১২টি শিশুর মধ্যে ১০টিই স্কুল পড়ুয়া। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ভর্তি শিশুর সংখ্যা ৮৪৷

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক ডা. প্রবীর কুমার সরকার বলেন, ‘এখন কিন্তু আমরা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে আছি। এতবড় একটা ক্রাইসিস দেশে চলছে তাহলে তো অবশ্যই আমার এখানে ফল্ট আছে, এটা তো আমাকে স্বীকার করতেই হবে।’

চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৫ হাজার।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!