তাসকিনের সাফল্যের রহস্য
<![CDATA[
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুটা বেশ ভালোভাবেই হয়েছে বাংলাদেশের। সাকিব আল হাসানের দল সুপার-১২তে পৌঁছে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তুলে নিয়েছে জয়। সোমবার (২৪ অক্টোবর) হোবার্টের ম্যাচে লড়াকু জয় তুলে নেয় টাইগাররা। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে ম্যাচ জয়ের অন্যতম কারিগর তাসকিন আহমেদ জানান তারা সফলতার রহস্য।
ঐতিহাসিক জয়ের দিনে খুব একটা ভালো ছিল না বাংলাদেশের ব্যাটারদের পারফরম্যান্স। বহুল সমালোচিত ওপেনাররা ভালো সূচনা এনে দিলেও ব্যর্থ টাইগার মিডল অর্ডার। ১২০ বলের খেলায় বাংলাদেশ ডট দিয়েছে ৪৭টি। পাওয়ার প্লেতে ৪৩ রান করলেও শেষ ৫ ওভারে এসেছে মাত্র ৩৮ রান। বোলাররা দুর্দান্ত কিছু না করলে ম্যাচটার ফলাফল হয়তো ভিন্ন কিছুও হতে পারতো।
তাই স্বল্প পুঁজি নিয়েও ডাচ দুর্গ জয়ের মূল কারিগর টাইগার পেসাররা। আলাদা করে বললে তাসকিন আর হাসান মাহমুদ। প্রথম ওভারে দুই উইকেট নিয়ে নেদারল্যান্ডসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তাসকিন। পরে হাসান মাহমুদও জ্বলে ওঠেন। দু’জনই করেছেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিং, ডট দিয়েছেন সমান ১৬টি করে। ম্যাচ শেষে টাইগার পেসারদের স্তুতিতে ভাসিয়েছেন অধিনায়ক সাকিবও।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে ভাগ্য যেন সব সময়ই পরিহাস করেছে প্রোটিয়াদের সঙ্গে
এদিন তাসকিন ছিলেন দুর্দান্ত। নিয়মিত বোলিং করেছেন ১৪০ গতির আশপাশে। টি-টোয়েন্টিতে একটা ডটবল যেন সোনার হরিণ। সেখানে তাসকিনের ২৪ বলের ১৬টাই ডট। তাসকিন যদি হন ম্যাচের ইমপ্যাক্ট ক্রিকেটার তবে আরেকজনকেও রাখতে হবে তালিকায়। জাতীয় দলের তরুণ তুর্কি হাসান মাহমুদ। মূলত যখনই চোখ রাঙিয়েছে নেদারল্যাসের ব্যাটাররা, তখনই রানরেটের টুঁটি চেপে ধরেছেন হাসান। ৪ ওভারের মোটে ১৫ রানই যথেষ্ট তার বিরুদ্ধে কতটা অস্বস্তিতে ছিলে প্রতিপক্ষ। ছিল উইকেট মেডেনও। হাসানও করেছেন নিজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং।
এছাড়া, তাসকিনের সম্ভাবনা ছিল ৫ উইকেট তোলার। তা না হলেও যা করেছেন এই ডানহানি, তাসমান সাগর পাড়ে এর আগে যে পরিসংখ্যান নেই আর কোনো টাইগার পেসারের।
ম্যাচ শেষে তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘খুব ভালো একটা জয় পেয়েছে দল। দলের জন্য জয়টা খুব দরকার ছিল। দলগতভাবে আমরা ভালো খেলেছি। আমি খুশি, দলের জন্য অবদান রাখতে পারার জন্য। আমি বেসিকটা ধরে রেখেছিলাম। প্রথম ইনিংসে বল মুভ করছিল। তাই আমি টেস্ট ম্যাচে যে লেন্থে বল করি, সেই লেন্থেই বল করেছি।’
আরও পড়ুন: ব্যাটিং আশানুরূপ না হলেও সামনের ম্যাচগুলোতে ভালো কিছু হবে: টিটু
বোলিং কোচ তথা দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি অ্যালান ডোনাল্ডের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা সম্বন্ধে তাসকিন বলেন, ‘‘আমি দুই দিকেই বল সুইং করাতে পারি। সেটাই এই ম্যাচেও আমার মূল লক্ষ্য ছিল। আমি এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করেছি। বিশ্বকাপে আসার আগে এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করেছি। আর সেটাই ২২ গজে করতে পারাতে আমি খুশি।’
আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) টাইগারদের দ্বিতীয় ম্যাচ, প্রতিপক্ষ প্রোটিয়া। সিডনির বাউন্সি উইকেটেও নিশ্চিত রূপেই তাসকিন এবং হাসানেই ভরসা খুঁজবেন সমর্থরা।
]]>




