খেলা

তাস খেলার আসরে পুলিশের ধাওয়া, নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ

<![CDATA[

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে এক সবজি ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। তাস খেলার সময় স্থানীয় হাটবোয়ালিয়া ফাঁড়ি পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় দুজনকে হাতেনাতে আটক করতে পারলেও অন্য দু’জন মাথাভাঙ্গা নদীতে ঝাঁপ দেয়। এদের মধ্যে একজন নদী থেকে সাঁতরে ডাঙায় উঠলেও অন্যজন নদীর স্রোতে হারিয়ে যান।

আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামে বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ টোকন আলী (৩৮)ওই গ্রামের ওদু ছদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন সবজি ব্যবসায়ী।

স্থানীয়রা জানান, আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া ফেরিঘাট পাড়ার আবদুর রহমানের ছেলে আকছেদ আলী, ইয়াদুল হকের ছেলে কবিরুল ইসলাম, ছুন্নত আলীর ছেলে নাজিম উদ্দিন ও ওদু ছদ্দিনের ছেলে টোকন আলী গ্রামের পার্শ্ববর্তী মাথাভাঙ্গা নদীর তীরবর্তী বাঁশবাগানের নিচে বসে তাস খেলছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় হাটবোয়ালিয়া ক্যাম্প পুলিশের টুআইসি এএসআই জাহিদুল ইসলাম দু’জন কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে ওই চারজনকে ধাওয়া দেন।

তাদের অভিযোগ, পুলিশ টাকা আদায় করার জন্যই তাদেরকে ধাওয়া দেয়। এ সময় কবিরুল ইসলাম ও আকছেদ আলীকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। তখন পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে অপর দু’জন পাশের মাথাভাঙ্গা নদীতে ঝাঁপ দেন। কিছুক্ষণ পর নাজিম উদ্দিন সাঁতরে ওপারে চলে গেলেও সাঁতার না জানার কারণে টোকন আলী স্রোতের তোড়ে তলিয়ে যান।

গ্রামের কয়েকজন জানান, পরবর্তীতে আটক দু’জনের কাছ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় মেয়ের বিরুদ্ধে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

এদিকে, ঘণ্টাখানেক পরে টোকনকে না পেয়ে পরিবারের লোকজন নদীর ধারে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তাকে উদ্ধারে আলমডাঙ্গা থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আসে। তারা বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও টোকনের কোন খোঁজ পাননি।

এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম বলেন, ‘চারজন তাস খেলছিল, এমন সংবাদ পেয়েই পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। তাস খেলায় জড়িতরা ভয় পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে। ঘটনাক্রমে সাঁতার না জানায় টোকন নামে একজন তলিয়ে যায়।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিছুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে জুয়ার কোন আলামত পাওয়া যায়নি। দু’জনকে আটক করা হলেও পরে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আসমত উল্লাহর জিম্মায় তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আর বাকি দু’জন পালিয়ে যায়। এদের মধ্যে একজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। নদীতে স্রোত থাকায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা খুঁজে পায়নি।’

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!