দুইবার বাংলাদেশে এসেছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ
ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথ তার শাসনামলে দুইবার বংলাদেশে এসেছেন। প্রথমবার এসেছিলেন পূর্ব পাকিস্তান আমলে। দ্বিতীয়বার বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৮৩ সালে।
তার প্রথম সফর ছিল ১৯৬১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। সেদিন রানির রাজকীয় বিমান নেমেছিল পুরোনো বিমানবন্দরে। তার সাথে ছিলেন স্বামী প্রিন্স ফিলিপ। রমনা পার্কের সামনে একটি পুরোনো বাড়ি সাজানো হয়েছিল রানির জন্য। সেই বাড়িটি বর্তমানে বঙ্গভবন। ১৩ ফেব্রুয়ারি রানি বের হয়েছিলেন স্টিমারে বুড়িগঙ্গা ভ্রমণে। ভ্রমণ শেষে রানি গিয়েছিলেন পৃথিবীর সর্ববৃহত পাটকল আদমজী জুট মিল পরিদর্শনে। এরপর চট্টগ্রামে সার্কিট হাউসে এক নাগরিক সম্বর্ধনায় যোগ দেন রানি।
সেসময় তাঁকে গভর্ণর হাউসে সম্বর্ধনা দেয়া হয় ও আতশবাজি পোড়ানো হয় রাতের ঢাকায়। গভর্ণর লে. জেনারেল আজম খান রানিকে পুরোনো বিমানবন্দর অর্থাৎ তেজগাও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।
দ্বিতীয়বার এসেছিলেন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর। ১৯৮৩ সালে ৪ দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন রানি। সে সময় তিনি বাংলাদেশের গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বৈরাগীরচালা গ্রাম দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে গ্রামীণ নারীদের অবস্থান দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। রানির আগমন উপলক্ষ্যে ওই গ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছিলো, যা পরবর্তীতে ওই এলাকায় কলকারখানা গড়ে উঠতে সাহায্য করে। রানি তার সফরে ঢাকা থেকে ট্রেনে গাজীপুরের শ্রীপুর পরে সেখান থেকে গাড়িতে করে বৈরাগীরচালায় যান।
আরও পড়ুন: রানির অভিষেক অনুষ্ঠানে লন্ডন যেভাবে মেতে উঠেছিল উৎসবে
বিশ্ব সেদিন অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেছিল ইংল্যান্ডের রাণী এলিজাবেথের নিভৃত পল্লীর মানুষের মিছিলে মিশে একাকার হয়ে যাওয়ার অনন্য দৃশ্য। ইংল্যান্ডের রানি এলিজাবেথকে এই নিভৃত জনপদে আনতে পারার অনন্য রুপকার যিনি ছিলেন শ্রীপুরের আওয়ামী লীগের রাজনীতির অমর কর্ণধার, ২৬ বছরের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক এবং তৎকালীন শ্রীপুর ইউনিয়নের ২ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মরহুম মিজানুর রহমান খান।
সামরিক সরকারের আধিপত্তের মধ্যেও মরহুম মিজানুর রহমান খান সেদিন এই গ্রামে তারই বাড়িতে নিয়ে আসেন জাতির জনকের কন্যা আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও।
উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্কটল্যান্ডের বালমোরাল ক্যাসল প্রাসাদে ৯৬ বছর বয়সে মারা যান ব্রিটেনের দীর্ঘ সময়ের শাসক রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।




