নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় বিনিয়োগের পথে ভারত
<![CDATA[
জলবায়ু সংকট সামাল দিতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর জন্য একাট্টা হয়ে কাজ শুরু করেছে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো। সে লক্ষ্যে এবার ভারতও বিদ্যুৎখাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে নিয়েছে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা।
ভারতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সবচেয়ে বড় অন্তরায় এখন বিদ্যুৎখাতের ট্রান্সমিশন লাইনগুলো। এ লাইনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে সার্বিকভাবে ২ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন ডলারের (৩০ বিলিয়ন) এক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটি।
বর্তমানে ভারতের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ট্রান্সমিশন ক্যাপাসিটি ১১২ গিগাওয়াটস। নতুন পরিকল্পনায় চলতি দশকের শেষের দিকে এ ক্যাপাসিটি বাড়িয়ে ১৫০ গিগাওয়াট করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে দেশটি। ২০৩০ সালকে সীমারেখা ধরে ২ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি নিয়ে শিগগিরই কাজ শুরু করবে দেশটি।
মূলত রাজস্থান ও গুজরাটের সোলার প্যানেল ও তামিলনাড়ুর উইন্ড মিলগুলোকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য প্রাথমিকভাবে এ অর্থ খরচ করা হবে বলে জানা গেছে।
ভারতের লক্ষ্য ২০৭০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে এখন থেকেই কাজ শুরু করেছে দেশটি। বর্তমানে অ-জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ভারতের ১৭৩ গিগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ আসে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করবে ভারত। এ জন্য শুরুতেই ভারতের ট্রান্সমিশন লাইন নিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে সহজেই শহর ও শিল্পাঞ্চলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুবিধা পৌঁছে দেয়া যায়।
আরও পড়ুন: রাশিয়া থেকে মার্কিন আমদানি বেড়ে দ্বিগুণ
তবে কোন মাধ্যমে ভারত এই ট্রান্সমিশন লাইনের মেগা প্রজেক্টের কাজ বাস্তবায়ন করবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। এতদিন দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত পাওয়ার গ্রিড করপোরেশন এ ধরনের কাজ করলেও, ধারণা করা হচ্ছে, এবার কোনো প্রাইভেট কোম্পানিকে এ দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। এরই মধ্যে কাজ পেতে অনেক প্রাইভেট কোম্পানি সরকারের সঙ্গে লবিং শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এমনই এক লবিং গ্রুপের সদস্য ইলেকট্রিক পাওয়ার ট্রান্সমিশন অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক বিজয় চিবার বলেন, ‘নতুন এই পরিকল্পনাটি এককথায় দেশের শিল্পখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। তবে সবার আগে আমাদের জানতে হবে কীভাবে ও কাদের মাধ্যমে কাজ করতে চায় সরকার।’
সূত্র: ব্লুমবার্গ।
]]>




