নাগরিকদের মৃত্যুর মুখে পাঠাচ্ছেন পুতিন: জেলেনস্কি
<![CDATA[
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রুশ নাগরিকদের মৃত্যুর মুখে পাঠাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক বার্তায় এ কথা বলেন তিনি। রুশ সেনাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘পুতিন জেনেশুনে আপনাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। আপনারা আত্মসমর্পণ করুন। আপনাদের সঙ্গে সভ্য আচরণ করা হবে।’
ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সেনাদের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ ও দলত্যাগের জন্য পুতিনের পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তি ঘোষণা করে ডিক্রি জারির কয়েক ঘণ্টা পরই এ আহ্বান জানান জেলেনস্কি। খবর আল জাজিরার।
গত বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেন যুদ্ধে রিজার্ভ সেনার ‘আংশিক সমাবেশে’র ঘোষণা দেন পুতিন। এ আংশিক সমাবেশে তিন লাখ রিজার্ভ সেনাকে তলব করা হয়েছে। যার বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। তবে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ রয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রাশিয়ার এ সেনা সমাবেশকে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে পুতিনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে রাশিয়ায়। বিক্ষোভ থেকে এক হাজারের বেশি রুশ নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।
এছাড়া যুদ্ধে যাওয়ার ভয়ে দেশ ছাড়ছেন কিছু রুশ পুরুষ। প্রতিবেশি দেশ জর্জিয়ার পাশাপাশি ফিনল্যান্ড সীমান্ত হয়ে অনেকে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। ফিনিশ-রুশ সীমান্তে ভিড় লেগেছে বলেও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো।
আরও পড়ুন: ঘরে-বাইরে চাপের মুখে পুতিন, পাশে নেই মিত্ররাও!
এর মধ্যেই নতুন সেনা সমাবেশ বাস্তবায়ন শুরু করেছে রাশিয়া। শুরু হয়েছে রিজার্ভ সেনার নিয়োগ প্রক্রিয়াও। শুরুতেই বাহিনীতে যোগ দেয়ার ডাক পড়েছে রাজধানী মস্কোর নাগরিকদের। এজন্য এরই মধ্যে একটি ডিক্রি জারি করেছেন মস্কোর মেয়র। এতে প্রতি সেনাকে মাসিক ৫০ হাজার রুবল বেতন দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
রুশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাদের সামরিক প্রশিক্ষণ আছে এবং যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা আছে কেবল তাদেরই রিজার্ভ সেনা হিসেবে যুদ্ধে পাঠানো হবে। কিন্তু অনেকেরই আশংকা, রিজার্ভ সেনা হিসেবে যাদের যুদ্ধে পাঠানো হবে তারা সে দলে পড়ে যেতে পারেন। তবে রিজার্ভ সেনা হিসেবে সরকার তলব করার পর কেউ সেটি এড়িয়ে যেতে চাইলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে।
কেউ এ নির্দেশ না মানলে বা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলে কিংবা পালিয়ে গেলে দ্বিগুণ শাস্তির বিধান রেখে শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) একটি ডিক্রি জারি করেন পুতিন। এতে বলা হয়, কেউ ইউক্রেন যুদ্ধে যেতে অস্বীকার করলে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। একইভাবে যুদ্ধের ময়দানে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলেও দেয়া হবে শাস্তি। সেই শাস্তি হবে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড।
আরও পড়ুন: অভিবাসী ইস্যুতে ইতালীয়দের যে নসিহত দিলেন পোপ
তার এ পদক্ষেপের কয়েক ঘণ্টা পরই রুশ সেনাদের আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানান জেলেনস্কি। তিনি বলেন, সংঘাতের পর যুদ্ধাপরাধী হিসাবে বিচারের মুখে পড়ার চেয়ে ইউক্রেনের কাছে আত্মসমর্পণ করা ভালো হবে। জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন দলছুট রুশ সেনাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কনভেনশন মেনে আচরণ করবে ও রাশিয়ায় ফিরে শাস্তির মুখে পড়ার ভয় থাকলে কোনও সেনাকে সেখানে পাঠাবে না।
এদিকে রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে ইসরাইল ইউক্রেনকে কোনো সহায়তা করেনি বলে দাবি করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, ইসরাইল আমাদেরকে কিছুই দেয়নি। এজন্য আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি।
বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পরপরই ইসরাইলের কাছে অস্ত্র চেয়েছিল কিয়েভ। কিন্তু এরপর সাত মাস পেরিয়ে গেলেও ইসরাইল কোনো অস্ত্রসহায়তা পাঠায়নি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার ফ্রান্সের এক সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দেন জেলেনস্কি। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তার দফতর সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে। ইসরাইলের কাছে চাওয়া অস্ত্র সহায়তার মধ্যে রকেট হামলা ঠেকানোর ‘আয়রন ডোম’ প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রযুক্তির সহায়তায় গাজা থেকে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের ছোড়া রকেট হামলা প্রতিরোধে সফলতা পেয়েছে ইসরাইল।
]]>




