নারীদের অভিভাবক যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা নয়: ইরান
<![CDATA[
ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মুখে এবার পশ্চিমাদের একহাত নিলেন জাতিসংঘে দেশটির উপপ্রতিনিধি জাহরা ইরশাদি। নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে অংশ নিয়ে তার দাবি, ইরানের নারীদের অভিভাবক যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা নয়। খবর তেহরান টাইমস।
পুলিশি হেফাজতে তরুণী মৃত্যুর অভিযোগে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে উত্তাল ইরান। দেশটির বিভিন্ন শহরে প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছেন হাজারো মানুষ। চলমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমাদের দায় দিচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্টসহ অনেকেই। তাদের অভিযোগ, ইরানকে অস্থিতিশীল করতেই আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে পশ্চিমারা।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে অংশ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) একই দাবি তুললেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের উপপ্রতিনিধি জাহরা ইরশাদি। তিনি বলেন, ইরানের নারীরা জানে কীভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করতে হয়। ইস্যুটি নিয়ে পশ্চিমাদের হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে, মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় সরকারও ব্যথিত বলে উল্লেখ করেন জাহরা।
আরও পড়ুন: রাশিয়া-ইরান সামরিক সম্পর্ক নিয়ে ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী
জাহরা ইরশাদি বলেন, মাহসা আমিনির মর্মান্তিক মৃত্যু হৃদয়বিদারক। এটা আমাদের সরকারসহ নাগরিকদের ব্যথিত করেছে। আমরা এর জন্য অনুতপ্ত। সরকার থেকেই তদন্ত চলছে। পশ্চিমাদের প্রতি আমাদের পরামর্শ থাকবে, আপনারা ইরানের নারীদের অভিভাবক হওয়ার চেষ্টা করবেন না। তাদের পক্ষে কথা বলার অধিকার আপনাদের নেই। আমাদের নারীরা অনেক স্মার্ট, তারা জানে কীভাবে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করতে হয়।
এদিকে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আবারো ষড়যন্ত্রকারীদের এক হাত নিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘট পালনের যারা ডাক দিয়েছেন তাদের পশ্চিমাদের মতোই শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে, যেই নারীরা দেশ থেকে বিদেশে গিয়ে পশ্চিমাদের সাহায্য করছে তাদেরকেও শত্রু বলেছেন খামেনি।
আরও পড়ুন: ইরানে এবার স্কুলশিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
আয়াতুল্লাহ আল খামেনি বলেন, এমন ঘটনা নতুন নয়। কিছু হলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। অনেক শিক্ষার্থী দেশেই বড় হয়, কিন্তু ফল দেয়ার সময় তারা বিদেশি যায়। এতে উপকৃত হয় শত্রুরা।
এদিকে ইরানের ফুটবল ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের একটি গোষ্ঠী কাতার বিশ্বকাপ থেকে ইরানকে নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইরানে নারীদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ করত না দিয়ে সরকার হস্তক্ষেপ করছে, যা ফিফার নিয়মের লঙ্ঘন।
]]>




