নিখোঁজ মা-ছেলের মরদেহ মিলল সেপটিক ট্যাংকে
<![CDATA[
শেরপুরে নিখোঁজের চারদিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্বামীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) শহরের শিংপাড়া এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
তারা হলেন- ভাতশালা ইউনিয়নের মধ্যবয়ড়া গ্রামের মাশেকের স্ত্রী রুমানা আক্তার রোকসানা (২৮) ও তার ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র জুনায়েদ হাসান রাফিদ (১১)। রোকসানা স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকের নার্স ছিলেন।
প্রতিবেশীরা জানান, সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের মধ্যবয়ড়া গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে মাশেক ২০০৮ সালে শেরপুর পৌরসভার খরমপুর টিক্কাপাড়ার বাসিন্দা মো. সুরুজ মিয়ার মেয়ে রোকসানা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই অটোচালক মাশেক মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়েন। তিনি প্রায়ই রোকসানাকে মাদক সেবনের টাকার জন্য মারপিট করতেন। রোকসানা শহরের মাধবপুরে ফ্যামিলি নার্সিং হোমের নার্স ছিলেন।
আরও পড়ুন: আট মাস পর কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলন
জেলা শহরের বিভিন্ন বাসায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে মাশেক ভাড়া থাকতেন। তাদের স্বামী-স্ত্রীর কলহের কারণে বাসার মালিকরা তাদের তাড়িয়ে দেন। পরে গেল ডিসেম্বরেরে ওই মহল্লার ধানচাল ব্যবসায়ী বাসেত খানের বাসা ভাড়া নেয়। এখানেও তাদের স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া বিবাদ থেমে থাকেনি। এরই জেরে শনিবার রাতের কোনো এক সময় মাদক সেবী মাশেক স্ত্রী রোকসানা ও ছেলে রাফিদকে হাত পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মরদেহ গুম করতে ওই বাসার সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এদিকে রোকসানার বড় বোন সুফিয়া ওই ভাড়াটিয়া বাসায় গিয়ে রোকসানা ও তার ছেলেকে দেখতে না পেয়ে বুধবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে সদর থানায় জিডি করেন। পরে জিডির সূত্র ধরে ঘাতক স্বামীকে আটক করা হয়।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহমেদ বাদল গণমাধ্যমকে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জের ধরেই মা-ছেলেকে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে মাশেককে আটক করা হয়েছে।
]]>




