খেলা

পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের করণীয় কী

<![CDATA[

সামর্থ্য না থাকার পরেও শুধু পাওয়ার হিটিংয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে গিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ভরাডুবি হচ্ছে বাংলাদেশের। ২০২৪ বিশ্বকাপের জন্য তাই ১৫ থেকে ২০ জন ক্রিকেটার নিয়ে আলাদা পুল করার তাগিদ বিশ্লেষকদের। সঙ্গে পরামর্শ দিলেন এই ফরম্যাটে ঘরোয়া টুর্নামেন্টের সংখ্যা বাড়ানোর। দল নির্বাচনে স্বচ্ছতার পাশাপাশি স্পোর্টিং উইকেটের সঙ্গে ক্লাব রাজনীতি থেকেও ক্রিকেটকে রাখতে হবে দূরে।

বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান বলেন, আমাদের অবস্থা এখন ভালো না। মানসিক এবং শারীরিকভাবে আমরা ভালো নেই। আমরা পারফর্ম করতে পারছি না।

সাবেক ক্রিকেটার তারেক আজিজ খান বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গণে রাজত্ব করতে চাইলে কিছু প্যাটার্ন দরকার হয়। সেসব প্যাটার্নে গুরুত্ব দিতে হবে।

আর ক্রিকেটার রুবেল হোসেন বলেন, বোলিং ইউনিট খুব ভালো করছে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, ব্যাটিংটা যদি আরও একটু সাপোর্টিং হতো, তবে আমরা আরও ভালো করতে পারতাম।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা

কিন্তু ‘সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষধ দেব কোথা’। চেনা রোগ, দাওয়াই জানা, তবুও কোনো তত্ত্বে কোনো পথ্যে সাড়ে না সে ব্যধি। টি-টোয়েন্টিতে সাফল্য যেন এক মরীচিকার নাম বাংলার ক্রিকেটে। ভেন্যু বদলায়, বদলায় কোচ, অধিনায়ক, প্রেক্ষাপট। তবুও ধরা দেয় না সাফল্য। সমস্যাটা তবে কোথায়?

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক কোচ সারোয়ার ইমরান বলেন, অনেক ফ্যাক্টরের মধ্যে উইকেটও একটা ফ্যাক্টর। এছাড়া আমাদের আম্পায়ারিংয়ের মানও বাড়াতে হবে। এখনও এমসিসি স্টাইলে আমাদের ব্যাটিং চলছে। এই জায়গাগুলোতে আমাদের উন্নতি করতে হবে।  

বছর দেড়েক বাদে পরবর্তী বিশ্বকাপ আটলান্টিক কোল ঘেঁষে, মার্কিন মুলুক আর ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে। হাতে থাকা এই সময়টা কিভাবে কাজে লাগাতে হবে মিলল সেই পরামর্শও।

ক্রিকেট বিশ্লেষক তানভীর মাজহার তান্না বলেন, দুই ধরনের পলিটিক্স আছে। একটা ক্লাব পলিটিক্স আর অন্যটা খেলোয়াড় পলিটিক্স। আর বাছাই কমিটি তো মনে হচ্ছে অকেজো হয়ে পড়েছে। তাদের তো মনে হচ্ছে, কোনো ক্ষমতাই নেই। ১৫ থেকে ২০ জন ভালো খেলোয়াড়দের নিয়ে বড় পরিবর্তন দরকার।

আরও পড়ুন: কোচ-অধিনায়ক পরিবর্তনেও আলোর মুখ দেখছে না ভারত

ক্রিকেট বিশ্লেষক ও কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিম বলেন, আমাদের খেলার ধারায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে আমাদের খেলতে হবে। এমন নয় যে, বেশি বেশি করে ৪ এবং ৬ মারতে হবে। ভালো স্ট্রাইক রোটেশন করা আর মাঝখানের ওভারগুলোকে ব্যাটসম্যনরা কাজে লাগাতে পারলে ভালো কিছু হবে।

সারোয়ার ইমরান বলেন, আমাদের ৫০ ওভারের ম্যাচ ভালো করার কারণ হচ্ছে সময় নিয়ে খেলি। আমাদের এখানে প্রচুর টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হওয়া উচিত। প্রিমিয়ার লিগ যদি ৫০ ওভার হয়, সুপার লিগ টি-টোয়েন্টি করা যেতে পারে। ক্যালেন্ডারে থাকবে, কে জাতীয় দলে খেলবে না খেলবে, লিগগুলো ঠিক মতো হবে। কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না।

প্রতিটা ব্যর্থতার পরই তা নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গণ উত্তপ্ত থাকে কয়েকটা দিন। ভুলে যেতেও সময় লাগে না বেশিক্ষণ। এবার ব্যতিক্রম কিছু হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনই এ নিয়ে উদ্যোগ না নিলে এই ফরম্যাটে ব্যর্থতার এপিটাপ লেখা হবে না কখনই।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!