পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিতে ব্যাহত হচ্ছে বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ
<![CDATA[
বাগেরহাটে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ও বৈদ্যুতিক তারে ভাতছালা-মুনিগঞ্জ বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চিঠি চালাচালি চললেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বাঁধ সংস্কার কাজ।
মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন বাঁধের বিভিন্ন জায়গায় বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। সেই সঙ্গে বেশকিছু তারও ঝুলে আছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভাতছালা-মুনিগঞ্জ বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার আগেই বাঁধের ওপর এবং পাশে থাকা বেশকিছু বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার অপসারণের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে চিঠি দেন পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাটের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কুমার স্বস্তিক। চিঠির উত্তরে বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম প্রকৌশলী পারভেজ আলম পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানান, খুঁটি উত্তোলন, পুনঃস্থাপন ও অন্যান্য মালামাল বাবদ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ৯ লাখ ৬৫ হাজার ২৯৫ টাকা দিতে হবে। পরে ৭ ডিসেম্বর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কুমার স্বস্তিক আবারও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে চিঠি দেন।
আরও পড়ুন: পিরোজপুর /সিডরের ১৫ বছরেও নির্মাণ হয়নি টেকসই বেড়িবাঁধ
চিঠিতে বলা হয়, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার অপসারণ এবং প্রতিস্থাপনের জন্য এ প্রকল্পে কোনো বরাদ্দ নেই। এ খাতে টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দেয়া হবে। বরাদ্দ পেলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অনুকূলে টাকা জমা দেয়া হবে। এ ছাড়া চিঠিতে আরও বলা হয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি অপরিকল্পিতভাবে বাঁধের ওপর খুঁটি স্থাপন করেছে। যার ফলে বাঁধ নির্মাণ কাজে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
চরগ্রামের আসলাম হোসেন বলেন, ‘প্রায় ত্রিশ বছর ধরে আমাদের এই বেড়িবাঁধটি নষ্ট ছিল। ফলে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে আমাদের জীবন চলত। বাঁধ নির্মাণ শুরু হওয়ায় আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু এখন দেখছি নানা কারণে বারবার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হোক।’
আরও পড়ুন: সিডরের দেড় দশক পরও মেরামত হয়নি পিরোজপুরের বেড়িবাঁধ
বেমরতা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান মোহেন বলেন, ‘আমাদের দুটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা। এখন আমাদের চাওয়া দাফতরিক জটিলতা শেষ করে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হোক।’
বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (সদর-কারিগরি) মোল্লা আবু জিহাদ বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাহিদা অনুযায়ী বৈদ্যুতিক খুঁটি ও লাইন স্থানান্তরের জন্য আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ক্ষতিপূরণের জন্য চিঠি দিয়েছি। ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সমাধান হলে খুঁটি ও লাইন স্থানান্তর করা হবে।’
আরও পড়ুন: খুলনার উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে নেই কোনো প্রকল্প
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করায় বাঁধ সংস্কার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বারবার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে চিঠি দেয়ার পরও তারা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে সময়মতো কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।’
দীর্ঘদিন পর গেল ২১ নভেম্বর বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের ভাতছালা-মুনিগঞ্জ বেড়িবাঁধ সংস্কার শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাট। নাজিরপুর উপপ্রকল্পের অধীন ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাতছালা থেকে মুনিগঞ্জ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করার কথা রয়েছে।
]]>




