পাকিস্তানকে বাঁচাতে ৯ বিলিয়ন ডলার দেবে দাতা দেশগুলো
<![CDATA[
নজিরবিহীন বন্যায় বিপর্যস্ত পাকিস্তানের অর্থনীতি বাঁচাতে দেশটিকে ৯ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দাতা দেশগুলো। সোমবার (৯ জানুয়ারি) জাতিসংঘের উদ্যোগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত পাকিস্তানের অর্থনীতি। দেশটির রিজার্ভ ৬০০ কোটি ডলারের নিচে নেমে গেছে। এই রিজার্ভ দিয়ে বড়জোড় এক মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। অন্যদিকে ডিসেম্বরে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ২৪ শতাংশ।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান জাতিসংঘের সঙ্গে যৌথভাবে জেনেভায় এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করে। লক্ষ্য হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা নেয়া।
বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ ৪০টি দেশের প্রতিনিধি এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেন। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে পাকিস্তান এ সম্মেলন থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চান পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: ইরানে আরও ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
গত বছর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে পাকিস্তান। বন্যায় দেশটির এক–তৃতীয়াংশ এলাকা তলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি খাত। প্রাণহানি ঘটে হাজারের বেশি মানুষের। জাতিসংঘ বলেছে, রেকর্ড মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট ওই বন্যা কয়েক দশকের মধ্যে পাকিস্তানের সবচেয়ে খারাপ বিপর্যয় ছিল।
এর ফলে দেশের এক-তৃতীয়াংশ জলমগ্ন হয়। এছাড়া ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, কমপক্ষে ১৭০০ মানুষ নিহত ও ৮০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পাকিস্তানে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির আবাসিক প্রতিনিধি নুট অস্টবি সোমবারের সম্মেলনের আগে বলেন, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ত্বরান্বিত হওয়ার কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে।
সেপ্টেম্বরের ওই বন্যার পানির বেশিরভাগ এখন হ্রাস পেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত দুর্যোগ-পরবর্তী একটি সমীক্ষা অনুমান করে যে, দীর্ঘমেয়াদে দেশটির পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনে সহায়তা করার জন্য ১ হাজার ৬৩০ কোটি ডলার প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: চীনের যে প্রদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ করোনায় আক্রান্ত
পাকিস্তানি ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, লাখ লাখ শিশু এখনো দূষিত এবং বন্যার স্থির পানির কাছাকাছি বাস করছে, যা তাদের জীবন যাপন ও সুস্থতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকার বলেছে, বিপর্যয়কর বন্যা পাকিস্তান যে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি সেখানে আরও সংকট যুক্ত করেছে।
প্রায় ২২ কোটি জনসংখ্যার দেশটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের দ্রুত হ্রাসের মধ্যে জ্বালানি এবং খাদ্যের মতো পণ্যের আমদানির জন্য অর্থ ব্যয় করার ক্ষেত্রে সংগ্রাম করছে, যা ইসলামাবাদের জন্য বৈদেশিক ঋণের বাধ্যবাধকতা পূরণ করা কঠিন করে তুলেছে।
]]>




