পাকিস্তানে বন্যার পর ডেঙ্গু
<![CDATA[
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার পর ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। এতে উদ্বিগ্ন দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় দেশটির বেশিরভাগ এলাকা তলিয়ে গেছে। এই বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির বেশিরভাগ এলাকায় এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। এর মধ্যেই ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও মারাত্মক গ্যাস্ট্রিক সংক্রমণের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে, জমে থাকা পানির পাশে মানুষেরা বসবাস করছে। এসব পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করছে। এসব বাস্তুচ্যুত মানুষদের মাঝেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। ডেঙ্গু জ্বরে এরই মধ্যে মানুষ মারা যাচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।
দেশটির সিন্ধু প্রদেশে এরইমধ্যে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ৩ হাজার ৮৩০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত মারা গেছে অন্তত ৯জন।
প্রদেশটির একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, সিন্ধু প্রদেশের সার্বিক অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা গোটা প্রদেশে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের ব্যবস্থা করছি। বেশির ভাগ রোগীই ডেঙ্গু আক্রান্ত। এর পরই আছে ম্যালেরিয়া রোগী।
তিনি আরও জানান, গোটা প্রদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতার মাত্রা একই। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গবেষণাগারে নমুনা পরীক্ষায় প্রায় ৮০ শতাংশেরই ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে।
এছাড়া বন্যার ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাবে বিভিন্ন এলাকায় পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে।
আরও পড়ুন: ‘কেউ খবর নিচ্ছে না’, পাকিস্তানে বন্যা দুর্গতদের বাঁচার লড়াই
এদিকে পাকিস্তানের বন্যাকবলিতদের পাশে দাঁড়াতে গত ৯ সেপ্টেম্বর দেশটি সফর করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। প্রাকৃতির দুর্যোগে পাকিস্তানের অন্তত ৩ হাজার কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেশটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
স্মরণকালে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পাকিস্তান। হতাহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। খাদ্য, বাসস্থানসহ নানা সংকটে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দেশটির সিন্ধু প্রদেশের। নজিরবিহীন বন্যায় প্রদেশটির অবস্থার এতটাই অবনতি হয়েছে যে, প্লাবিত হয়েছে প্রতিটি এলাকা।
জাতিসংঘের বরাতে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যাক্রান্ত এলাকাগুলোর ৬৪ লাখেরও বেশি মানুষের এখনই মানবিক সহায়তা দরকার। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের কাছে ১৬ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে ইসলামাবাদ। তবে ভয়াবহ এ বন্যায় দুর্গতদের জন্য নগদ ৭ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ দিয়েছে পাকিস্তান সরকার, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
আরও পড়ুন: ‘পাকিস্তানে ব্যাপক আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন’
]]>




