পাকিস্তান ও শ্রীলংকাকে ঝুলিয়ে রেখেছে চীন
<![CDATA[
অর্থনৈতিক চাপের সম্মুখীন পাকিস্তান ও শ্রীলংকা উভয়ই সহায়তা পেতে দীর্ঘ সময় ধরে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে চীন। কিন্তু সবসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশটি যে আর্থিক সহায়তা চাইছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো সহায়তার ঘোষণা দেয়নি দেশটি।
অন্যদিকে, স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ আর্থিক সংকট মোকাবিলা করছে শ্রীলংকা। পাকিস্তানেও গত মাসে ভয়াবহ বন্যায় ফসল উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে উভয় দেশ চীনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনায় চালিয়ে গেলেও আর্থিক সহযোগিতা পাওয়ার ব্যাপারে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। যে কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দিকে ঝুঁকছে তারা।
দ্য হিন্দু প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তার ব্যাপারে আইএমএফের নতুন প্রতিশ্রুতিসমূহ এখন চীনের কাছে দুই দেশের বকেয়া ঋণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। গত পাঁচ বছরে দুই দেশকে ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার অর্থ দিয়েছে চীন।
আরও পড়ুন : এসসিও সম্মেলনে ‘উন্নয়নের ঢাক’ পিটিয়েছে চীন
পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ জানিয়েছে, পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া এবং চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেংয়ের সঙ্গে জিয়ানে আলোচনা করেছেন। পাকিস্তানকে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে চীন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলেছে, জেনারেল ওয়েই উভয় দেশকে একসঙ্গে সমস্যা কাটিয়ে ওঠার, একে অপরকে সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করার এবং এগিয়ে যাওয়ার পথে একে অপরের মূল স্বার্থকে অটলভাবে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু পাকিস্তানকে সহায়তার কোনো প্রস্তাবের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি। তবে বেইজিং এর আগে ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার মূল্যের ত্রাণ সরবরাহ করেছিল।
আরও পড়ুন : জাতিসংঘে ভোট পেতে ঋণ নেয়া দেশগুলোকে চাপ দিতে পারে বেইজিং
এছাড়া শ্রীলংকা ৪০০ কোটি ডলার ঋণের জন্য বেইজিংকে চাপ দিচ্ছে। কিন্তু কয়েক মাস ধরে টানা আলোচনায় কোনো চুক্তি হয়নি।
এদিকে গত ১ সেপ্টেম্বর শ্রীলংকাকে ২৯০ কোটি ডলার ঋণ দিতে রাজি হয়েছে আইএমএফ। ইতোমধ্যে একটি প্রাথমিক ঋণ চুক্তিও হয়েছে। তবে এই ঋণ শ্রীলংকা তখনই পাবে, যখন শ্রীলংকার বিদ্যমান ঋণ পুনর্গঠন করতে চীন, ভারত ও জাপানসহ অন্যান্য প্রধান ঋণ দাতা দেশ এগিয়ে আসবে।
]]>




