বাংলাদেশ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে টাকা উত্তোলনের রেকর্ড

<![CDATA[

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দানবাক্সে পাওয়া গে‌ছে রেকর্ড পরিমাণ ৪ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ টাকা।

শনিবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সা‌ড়ে ৭টার দিকে গণনা শে‌ষে রেকর্ড পরিমাণ টাকা উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম ফরহাদ চৌধুরী। এর মাধ‌্যমে পূর্বেকার সকল রেকর্ড ভে‌ঙেছে কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক পাগলা মস‌জিদ।

শ‌নিবার সকা‌লে মস‌জি‌দের লোহার দা‌ন সিন্দুক থে‌কে পাওয়া যায় ২০ বস্তা টাকা। যা এ যাবত কা‌লের রেকর্ড। দিনভর টাকা গণনা ক‌রে সন্ধ‌্যার পর জানা যায় যে ৪ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ টাকা দানবাক্সে জমা পড়েছে।

এর আগে সর্বশেষ গত বছ‌রের ১ অক্টোবর দানবাক্সগুলো খোলা হলে ১৫ বস্তায় ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮২ টাকা পাওয়া যায়। এর আগে গত বছর সবচে‌য়ে বে‌শি ১৭ বস্তা টাকা মিলে।

প্রতি তিন মাস পর পর সিন্দুকগুলো খোলা হয়। এবার ৩ মাস ৬ দিন পর শনিবার সকাল ৯টার দি‌কে কি‌শোরগ‌ঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম ফরহাদ চৌধুরীর নেতৃ‌ত্বে কালেক্টরেটের ১০ জন ম‌্যা‌জি‌স্ট্রেটের উপ‌স্থি‌তি‌তে মস‌জি‌দের ৮‌টি লোহার বড় বড় দান‌ সিন্দুক খোলা হয়। এগু‌লো থেকে রেকর্ড ২০ বস্তা টাকা পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: এবার পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ২০ বস্তা টাকা

বস্তা ভ‌র্তি টাকা মস‌জি‌দের দ্বিতীয় তলায় ঢে‌লে শুরু হয় গণনা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারী কমিশনার অহনা জিন্নাত, শেখ জাবের আহমেদ, সুলতানা রাজিয়া,  সহকারী কমিশনার মোছা. নাবিলা ফেরদৌস, মো. মাহমুদুল হাসান ও রওশন কবীর।

মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান ও রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রফিকুল ইসলামসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ দুশতা‌ধিক মানুষ টাকা গণনায় অংশ নেন।

পাগলা মসজিদে মানত করলে মনের আশা পূর্ণ হয়। এমন ধারণা থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষ এ মসজিদে দান করে থাকেন।

জনশ্রুতি রয়েছে, এক সময় আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের বাস ছিল কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীর মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা  চ‌রে। ওই পাগল সাধকের মৃত‌্যুর পর এটি পাগল পীরের মসজিদ হিসেবে ব্যবহার শুরু করে এলাকাবাসী। তখন থে‌কে এ মস‌জি‌দে লোক সমাগম বাড়‌তে থা‌কে। এখা‌নে মানত করলে মনোবাসনা পূরণ হয় এমন বিশ্বাস থেকে হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের নারী-পুরুষ এই মসজিদে মানত নিয়ে আসেন। তারা নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কারের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি এমনকি বৈদেশিক মুদ্রাও দান করেন। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ মসজিদে মানত নিয়ে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের ঢল নামে। আগতদের মধ্যে মুসলিমদের অধিকাংশই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন । আর এ ইতিহাস প্রায় আড়াইশ’ বছরেরও অধিক সময়ের বলে জানা যায়।

আরও পড়ুন: পাগলা মসজিদে দানের টাকা ৩ কোটি ছাড়াল!

বর্তমানে কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মাত্র ১০ শতাংশ জমির ওপর মসজিদটি গড়ে উঠলেও বর্তমানে মসজিদ কমপ্লেক্সটি ৩ একর ৮৮ শতাংশ জায়গা রয়েছে। এ মসজিদের পরিধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এর খ্যাতি ও ঐতিহাসিক মূল্য।

এরইমধ্যে দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত মসজিদটিকে পাগলা মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্স নামকরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মসজিদের আয় থেকে বিভিন্ন সেবামূলক খাতে অর্থ সাহায্য করা হয়। মসজিদের দান থেকে পাওয়া এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এ ছাড়া করোনা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককেও অনুদান দেয়া হয় এ দানের টাকা থেকে।

পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানিয়েছে, ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদে আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। যার নামকরণ হবে ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’। এটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। সেখানে ৬০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

কি‌শোরগ‌ঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আবুল কালাজ আজাদ জানান, খুব শিগগিরই মস‌জিদ কমপ্লেক্সের কাজ শুরু করা যা‌বে ব‌লে আশা কর‌ছি।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!