বিনোদন

পানে পচন রোগ, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

<![CDATA[

দিনাজপুরের হিলির পানের বরজে দেখা দিয়েছে পচন রোগ। গাছ থেকে ঝরে পড়ছে পান। পান ওঠানোর আগমুহূর্তে বরজের এমন দৃশ্য দেখে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষিরা।

বুধবার (০৫ অক্টোবর) উপজেলার খট্টা মাধবপাড়া এলাকায় পান বরজগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকে পান চাষিসহ শ্রমিকরা ব্যস্ত বরজ থেকে পান ওঠাতে। তবে কৃষকদের মুখে হাসি নেই।

পান চাষিরা বলেন, মঙ্গলবার সকালে দেখেছিলাম গাছে ভালো পান; রাতের মধ্যে সেগুলো পচে গেছে।

করবখট্টা মাধবপাড়া গ্রামের পান চাষি ছরোয়ার বলেন, এই পচা পান বাজারে বিক্রি করলে কয় টাকা পাব তাতে শ্রমিকের মজুরি বা কি দেব; নিজেই বা কি খরচ করব।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছর পরে এবার  পানের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে শুরু থেকে দামটা অনেক ভালো। প্রতি বিরা পান (৬৪ পিসে এক বিরা)  বিক্রি হচ্ছে ভালো বড়টা ১২০ টাকা এবং ছোট সাইজেরটা ৭০-৮০ টাকা। এবার এনজিও থেকে  লোন নিয়ে একটা বরজ থেকে দুটি বরজ  করেছি। ভেবেছিলাম পান বিক্রি করে ঋণ শোধ করব। কিন্তু হঠাৎ করে কি যে হলো পান গাছে রোগ দেখা দিয়েছে। গাছের গোড়া পচে যাচ্ছে। পান গাছে থাকতেই পচে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ক্ষতির মুখে জামালপুরের পান চাষিরা

উপজেলার ঘাসুড়িয়া গ্রামের আরেক পান চাষি জানান, একসময় বাপ-দাদারা পান চাষ করে সংসার চালাতেন। কিছুদিন আগে পান গাছে পচন দেখা দেয়; সেই সময় অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পান বরজ গুটিয়ে নেন। বর্তমানে বাজারে পানের চাহিদা থাকায় ধারদেনা করে আমরা অনেকেই নতুন করে পানের বরজ করি। বরজে পান গাছ অনেক সুন্দর হয়েছে, পাতাও বেশ ভালো, কিন্তু কি যে হলো? হঠাৎ করে দেখা দিলো পচন রোগ। প্রথমে দুই একটি গাছে দেখা দিলেও  এখন তা ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে নানা ধরনের পরামর্শ দিচ্ছে, বিভিন্ন ওষুধ স্প্রে করছি তাতে কোনো লাভ হচ্ছে না।

খট্টা ইউপি চেয়ারম্যান কাওছার জানান, পান চাষ একটি লাভজনক ফসল। আমাদের এই এলাকাটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় মাটি পান চাষের জন্য বেশ উপযোগী। অনেক কৃষক তাদের বাপ-দাদাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পান চাষ করে জীবন-জীবিকা চালিয়ে আসছেন। অনেকেই পান চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।

চেয়ারম্যান বলেন, আমি নিজেও একজন  পান চাষি, আমার নিজের চার বিঘা জমিতে দুটি পানের বরজ রয়েছে। মাঝেমধ্যেই পান গাছের বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই  দেখা দিলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অনেক সময় পুঁজি পযর্ন্ত হারিয়ে ফেলি। এবারো কিছু কিছু বরজে দেখা দিয়েছে পচন রোগ।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মমতা বেগম সুলতানা  বলেন, হাকিমপুর উপজেলার একটি অংশের মাটি পান চাষের জন্য বেশ উপযোগী। পানের বরজগুলো রয়েছে অধিকাংশ খাট্টা মাধবপাড়া ইউনিয়নের ঘাসুরিয়া ও মাদবপাড়াই উপজেলায়। এ বছর ১৫৬টি  পানের বরজ রয়েছে ৪০ হেক্টর জমিতে।

তিনি বলেন, বর্তমানে আবহাওয়া কিছুটা পরিবর্তনের কারণে পান গাছগুলোতে পচন রোগ দেখা দিয়েছে। রোগপ্রতিরোধে বরজে ছত্রাকনাশক স্প্রেসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। তা ছাড়া মাঠপর্যায়ে উপসহকারীরা কাজ করছেন।

 

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!